’তারিখ : ২৩.১০.২০২৫ খ্রি.
বাংলাদেশকে মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত করা হয় বহু আগ থেকেই। নদী, খাল, বিল ও পুকুরের জালে ছড়িয়ে আছে এ দেশের মাছ চাষের ঐতিহ্য। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রসার ঘটতে থাকে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চাষিদের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে মাছ চাষ এখন একটি লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত হয়েছে। একসময় যা শুধুমাত্র শখ বা পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে করা হতো, এখন তা পেশা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম।
এমনই এক সফল উদাহরণ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মো. আলমগীর হোসেন। ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে শুরু করেন তাঁর মাছ চাষের যাত্রা। বর্তমানে তিনি ২৮০ শতাংশ আয়তনের পুকুরে মিশ্র মাছ চাষ করছেন। নিয়মিত চুন, জিওলাইট, গ্যাস ট্যাবলেট ও পটাশ ব্যবহার করে পুকুরের পানি ও পরিবেশের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখছেন। মাছের খাবার হিসেবে তিনি ফিড ব্যবহার করেন।

ফার্মটিতে স্থায়ীভাবে একজন শ্রমিক কাজ করেন, তবে মাছ ধরার সময় দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কিছু অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়। মাঝে মাঝে পুকুরে অক্সিজেন স্বল্পতা, ফুলকা পচা ও পেট ফুলে যাওয়া সমস্যার দেখা দিলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করেন তিনি।
মো. আলমগীর হোসেন নিয়মিত মৎস্য অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং দপ্তরের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চাষব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন। বছর শেষে তিনি লাভবান হন এবং ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে পুকুরের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যবসাও করছেন তিনি, তবে মাছ চাষকেই এখন নিজের মূল অনুপ্রেরণার ক্ষেত্র মনে করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মৎস্যবিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয় তাঁর মতো চাষিদের মধ্যে, যা তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে হাজারো তরুণ ও উদ্যোক্তা মাছ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। এই খাত শুধু পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধি আনছে না, দেশের বেকার সমস্যাও সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটাতে পারলে মাছ চাষ বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী কর্মসংস্থান খাতে পরিণত হতে পারে।
প্রতিবেদনকারী:খালেক হাসানকৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠকমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা
