তারিখ : ১৩.০১.২০২৬ খ্রি.
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৃষি ও পশুপালন গ্রামীণ জনপদের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। ঠিক তেমনি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝাকুনী পাড়ার বাসিন্দা দুলাল চক্রবর্তী। পেশায় একজন কৃষক হলেও নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আদর্শ পারিবারিক গবাদি পশুর খামার। বর্তমানে তার খামারে উন্নত জাতের ফ্রিজিয়ান গরু রয়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র তিনজন হওয়ায় এবং বাড়তি কোনো শ্রমিক না রেখে দুলাল চক্রবর্তী নিজেই খামারের যাবতীয় তদারকি ও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন, যা তাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি দিয়েছে।
দুলাল চক্রবর্তীর এই খামারের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত পরিকল্পিত। তিনি স্থানীয় বাজার থেকে গরু ক্রয় করে খামার শুরু করেন এবং বর্তমানে তার গোয়ালে একটি গাভী ও দুটি বাছুর রয়েছে। গাভীটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ কেজি দুধ পাওয়া যায়, যা তিনি নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আশেপাশের বাসাবাড়িতে বিক্রি করেন। পশুর খাদ্য তালিকায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন, যেখানে নিয়মিত ভুট্টা, খড়, ভুষি, খুদি ও কাঁচা ঘাসের জোগান নিশ্চিত করা হয়। পশুপালনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সচেতন; একবার তার গরুর ওলান ফুলা রোগ দেখা দিলেও দ্রুত প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ ও নিয়মিত ঔষধ-ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি বিপদ কাটিয়ে ওঠেন।
এই খামারের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এর আর্থিক সাফল্য। খামারের দুধ বিক্রির আয়ের পাশাপাশি দুলাল চক্রবর্তী বছর শেষে নিয়মিত একটি করে গরু বা বড় বাছুর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এর ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তার হাতে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আসে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলোর বড় কোনো প্রয়োজন মেটাতে বা সঞ্চয়ে দারুণ সহায়তা করে। গরুর পাশাপাশি তিনি স্বল্প পরিসরে হাঁস-মুরগিও পালন করছেন, যা তার কৃষিজীবী জীবনে বাড়তি সচ্ছলতা নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন ক্ষুদ্র ও পারিবারিক খামারগুলো এখন পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান হাতিয়ার। দুলাল চক্রবর্তী স্বপ্ন দেখেন তার এই খামারটিকে ভবিষ্যতে আরও বড় করার। তিনি মনে করেন, সঠিক পরামর্শ এবং পরিশ্রম করলে কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালনের মাধ্যমে যে কেউ নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। ঝাকুনী পাড়ার এই সফল খামারি এখন ওই এলাকার অনেক বেকার যুবক ও কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সবশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার পক্ষ থেকে উক্ত খামারিকে তথ্য দপ্তর কর্তৃক মুদ্রণ সামগ্রী সংশ্লিয়ে বিষয়ের বিনামূল্যে প্রদান করা হয়
সঠিক পদ্ধতিতে গরু পালন করে স্বাবলম্বী
১৫
previous post
