ঝাকুনি পাড়ার সাধারণ কৃষক মো. আবুল কালাম। পেশায় একজন কৃষক হলেও কৃষিকাজের পাশাপাশি নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন একটি ছোট্ট পারিবারিক খামার। বড় কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো এবং বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এই গবাদি পশু পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে সংকর জাতের দুটি গাভী এবং দুটি বাছুর।
আবুল কালাম নিজেই তার খামারের একমাত্র শ্রমিক। দিনভর কৃষিকাজের অবসরে তিনি নিজের হাতেই গরুগুলোর যত্ন নেন। খামারের পশুদের নিয়মিত ভুট্টা, খড়, ভুষি এবং খুদি খাওয়ানো হয়, সেই সঙ্গে বাড়ির আশেপাশে উৎপাদিত কাঁচা ঘাসও তাদের প্রধান খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে তার খামারের গাভীগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ লিটার দুধ পাওয়া যায়। উৎপাদিত এই দুধের একটি বড় অংশ তিনি নিজের পরিবারের খাবারের জন্য রাখেন এবং অবশিষ্ট দুধ আশেপাশের প্রতিবেশীদের বাড়িতে বিক্রি করেন। এতে করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে, আবার কিছু বাড়তি টাকাও হাতে আসছে।
গরুর পাশাপাশি আবুল কালামের বাড়িতে আরও রয়েছে ১০টি দেশি জাতের মুরগি এবং ১০টি দেশি হাঁস। দেশি মুরগি ও হাঁস পালনের মাধ্যমেও তিনি পারিবারিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তবে পশুপালনে যথেষ্ট আগ্রহী হলেও প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই এবং পশুদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন বা ঔষধ সেবনের বিষয়েও তিনি কিছুটা পিছিয়ে আছেন। খামার পরিদর্শনের সময় তাকে দ্রুত নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদি পশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মো. আবুল কালাম জানান, বর্তমানে ছোট পরিসরে পশুপালন করলেও তার ইচ্ছা আছে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়ানো এবং এই পারিবারিক খামারটিকে একটি বড় বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তর করা। স্থানীয় বাজার থেকে গরু কিনে শুরু করা তার এই ছোট উদ্যোগটি সঠিক যত্ন আর সরকারি সহযোগিতায় বড় কোনো খামারে পরিণত হতে পারে, এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।
সবশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার পক্ষ থেকে উক্ত খামারিকে তথ্য দপ্তর কর্তৃক মুদ্রণ সামগ্রী সংশ্লিয়ে বিষয়ের বিনামূল্যে প্রদান করা হয়
পারিবারিক খামারে স্বপ্ন বুনছেন আবুল কালাম
১২
previous post
