পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে গরু পালন করে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন মাদারীপুরের এক নারী। প্রতিকূলতা জয় করে গড়ে তুলেছেন সফল খামার। আজ তিনি স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। আর তার এই পথচলা আশার আলো দেখাচ্ছে আশপাশের অনেক নারীকে।মাদারীপুর শহরের সৈয়দারবালী এলাকার নুসরাত জাহান সাথী। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে গরু লালন-পালনের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। সেই আগ্রহ থেকেই ২০১৯ সালে স্বামীর সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘আমীরা ডেইরি ফার্ম’। শুরুটা সহজ ছিল না, প্রথম বছরেই অভিজ্ঞতার অভাবে কয়েকটি গরু মারা যায়, গুনতে হয় লোকসান।
কিন্তু থেমে থাকেননি সাথী। পরের বছর নতুন উদ্যমে আবার শুরু করেন খামার। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গরুর সংখ্যা। একসময় তার খামারে ৪০টির বেশি গরু ছিল। প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গরু বিক্রি করে ভালো লাভ করতে থাকেন তিনি। ২০২৪ সালে ঈদে ৩৫টি গরু বিক্রি করেন সাথী, যার প্রতিটির দাম ছিল ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত কোটি টাকার বেশি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। বর্তমানে খামারে ৯টি গরু রয়েছে। তার তিন সন্তান ছোট হওয়ায় তিনি পুরো সময় দিতে পারছেন না। তবুও স্বপ্ন দেখেন, সন্তান বড় হলে আবারও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলবেন।
শুধু গরুই নয়, খামারের পাশে হাঁস, মুরগি ও কবুতরও পালন করছেন তিনি। রয়েছে ৮০টি হাঁস, ৪০টি মুরগি ও ২০ জোড়া কবুতর।সাথী বলেন, প্রথম বছর গরু মারা যাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এখন গরুগুলো আমার সন্তানের মতো। যত্ন নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, আমি চাই আমাকে দেখে অন্য নারীরাও এগিয়ে আসুক। শুধু সংসার নয়, নিজের পায়ে দাঁড়ানোও সম্ভব। মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, সাথীর সফলতা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে নারীরাও বড় উদ্যোক্তা হতে পারেন। নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নকশি কাথা’র সভাপতি নুরুন্নাহার জুইয়ের মতে, সাথীর মতো আত্মপ্রত্যয়ী নারী সমাজে অনুকরণীয়। তার গল্প অন্য নারীদের অনুপ্রাণিত করবে।
