নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। দেশের প্রোটিন চাহিদাপূরণে বিশেষ করে ডিম, মাছ ও মাংস উৎপাদনে খামার খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এর মধ্যে লেয়ার মুরগি পালন এখন একটি জনপ্রিয় ও লাভজনক খাত।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের চাহিদা প্রায় ১০৪টি। ১৭ কোটি মানুষের জন্য বছরে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ কোটি ডিমের প্রয়োজন হয়। দৈনিক গড়ে উৎপাদন হয় প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ ডিম, যার বড় একটি অংশ আসে ছোট ও মাঝারি খামারিদের কাছ থেকে (সূত্র: সমকাল)।
এ ধরনের একটি সফল খামার গড়ে উঠেছে কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী বিবিরবাজার ইউনিয়নের অরণ্যপুর গ্রামে। ‘এস আলম ফার্ম’ নামে খামারটি গড়ে তোলেন তরুণ উদ্যোক্তা সিফাত আলম শাওন। ২০১৯ সালে মাত্র ৪ হাজার ব্রয়লার মুরগি নিয়ে শুরু করা এ খামার বর্তমানে একটি সমন্বিত কৃষি খামারে রূপ নিয়েছে। এখানে রয়েছে ৫,০০০ হাজার লেয়ার মুরগি, যেগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০টি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
মুরগিগুলোকে প্রতিদিন তিন বেলা ব্র্যান্ডের ফিড খাওয়ানো হয়। প্রতিটি মুরগি গড়ে পাঁচ মাস পালনের পর ডিম দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে খামারে তিনজন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন, যাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা।
খামারে লেয়ার মুরগির পাশাপাশি আছে পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান গাভী ও ৪৫টি বেলজিয়াম জাতের হাঁস। প্রাণিগুলোর নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা হয়। খামার মালিক জানান, এখনো পর্যন্ত মুরগিগুলোতে কোনো রোগ দেখা যায়নি।
খামারের পাশে ১.৫ একর আয়তনের জলাশয়ে চলছে মিশ্র মাছ চাষ। দিনে দুই বেলা ব্র্যান্ডের ফিড মাছের জন্য সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি মাছের মধ্যে লেজ পচা রোগ দেখা দিলে চুন, পটাশ, লবণ ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বছরে এ খামার থেকে গড়ে এক টন মাছ উৎপাদিত হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে খামার মালিক বলেন, আগামী বছর নতুন দুটি শেড নির্মাণ করে মোট ১২ হাজার মুরগি পালন করতে চান। তিনি সরকারের কাছে খামারিদের জন্য বিনামূল্যে টিকাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। খরচ বাদে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয় বলেও তিনি জানান। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা থেকে খামার পরিদর্শন শেষে মালিককে বিনামূল্যে বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী প্রধান করা হয়েছে। খামারটি বর্তমানে এলাকার তরুণদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
