২৬/০২/২০২৬ খ্রি.
“মাছের পোনা দেশের সোনা“ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় মুসলিমের মোড় ফরহাদ নামের এক যুবক মাছ চাষ করে সফল হয়েছে। বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে খামার থেকে বছরে আয় হয় ১১ লক্ষ টাকা।
ফরহাদ হোসেন এর বাবা ছিলেন একজন মৎস্যজীবী । ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন , তিনি বড় হয়ে মাছ চাষ করবেন । রাজশাহীতে প্রত্যন্ত গ্রামে ফরহাদ এর জন্ম । ফরহাদ পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভালো চাকরি পাচ্ছিল না। তখন সে ভাবল, চাকরির পিছনে না ঘুরে নিজেই কিছু করবে। সেই চিন্তা থেকেই ফরহাদ তার বাবার ছোট পুকুরে মাছ চাষ করবে সিদ্ধান্ত নিল । শুরুতে তার কাছে বেশি টাকা ছিল না। তাই সে স্থানীয় মৎস্য অফিস থেকে পরামর্শ নিল এবং অল্প পুঁজি দিয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের পোনা চাষ শুরু করল।
প্রথম দিকে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। কখনো মাছের রোগ হতো, কখনো খাবারের সমস্যা হতো। কিন্তু ফরহাদ হাল ছাড়েনি। সে নিয়মিত পুকুরের পরিচর্যা শুরু করলো, ঠিকমতো খাবার দিত এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিত।
এক বছর পর থেকে মাছ বিক্রি করে ভালো মুনাফা করতে লাগলো । সেই লাভ দিয়ে সে আরও দুইটি পুকুর লিজ নিল এবং মাছ চাষ শুরু করে । কয়েক বছরের মধ্যে ফরহাদ গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠল। এখন তার খামারে কর্মচারী কাজ করে এবং সে অন্য তরুণদেরও মাছ চাষ করতে উৎসাহ দেয়।
ফরহাদের ইচ্ছে অনেক আগে থেকেই বাবার সঙ্গে মাছ চাষে যুক্ত হবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ আমি নিজেই পুকুর লিজ নিয়ে চাষ করি। প্রথমে তিন বিঘা দিয়ে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত বাবার আর আমি মিলে প্রায় ৪০ বিঘার মত পুকুর চাষ করি। যেখানে ৫ জন কর্মচারী থাকে তাদের মাসিক বেতন ১৫,০০০ হাজার টাকা ।
ফরহাদ বলেন, শুধু ৫ জন কর্মচারী দিয়েও হয় না । তাদের সঙ্গে আমি আর বাবা দুজন মিলে ২৪ ঘন্টায় দেখভাল করি। বাবা আগে থেকেই প্রচুর পরিশ্রম করে তার পরিশ্রমের ফলে আমরা এত দূর এগিয়ে আসতে পেরেছি । যার কারণে প্রত্যেক বছর আমরা ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করি । এবং বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে ১১ লক্ষ টাকা বছরে আয় হয়।
পরিশেষে, খামারিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে লিফলেট ও ফোল্ডার বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
মোঃ ছামছুল হক
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগটক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর,
আঞ্চলিক অফিস,রাজশাহী।
