
চিত্র: খামারি মোনাসেফ হওলাদার ফিরোজ কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের লিফলেট বিনামূল্যে বিতরণ
বরিশাল সদরের রূপাতলিতে মো: মোনাসেফ হওলাদার ফিরোজ ১টি গাভী থেকে আজ তিনি একজন সফল খামারি ও উদ্যেক্তা। খামারের পাশাপাশি তার রয়েছে ফিরোজ ভেটেরিনারি মেডিসিন কর্নার ও ফিরোজ মিষ্টান্ন ভান্ডার নামের ২টি প্রতিষ্ঠান। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি হয়েছেন বরিশালের একজন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা। তার বাৎসরিক নিট আয় প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা।
২০১৪ সালে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে ১টি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী ক্রয় করে শুরু করে ফিরোজ ডেইরি খামার। বর্তমানে তার খামারে ৩৫ টি গাভী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অধিকাংশ ফ্রিজিয়ান,জার্সি এবং সংকর জাতের গাভী। তার নিজেস্ব জমিতে তিনি নেপিয়ার , নেপিয়ার পাকচং, জার্মান , জারা,অজানা সহ বিভিন্ন জাতের ঘাষ উৎপাদন করে। ঘাসের পাশাপাশি গাভীকে তিনি বিভিন্ন সুষম খাবার যেমন: খেল,ভূষি,কূড়া, ভূট্টা ভাঙা ইত্যাদি দিয়ে থাকেন। ঘাস ও খর কাটার জন্য তার খামারে রয়েছে উন্নতমানের একটি ঘাস ও খর কাটার মেশিন।
ফিরোজ ডেইরি খামার থেকে দৈনিক ২৫০-৩০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। উৎপাদিত দুধ তার মিষ্টান্ন ভান্ডারে নিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, দধি, ছানা, রসমালাই ইত্যাদি। অতিরিক্ত উৎপাদিত দুধ তিনি স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা ও দই মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন। তিনি জানান, তার বাৎসরিক নিট আয় প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও তার ফিরোজ মেডিসিন কর্নারে হাঁস ,মুরগি ও গবাদিপশুর সকল ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়। তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৫ জন কর্মচারী কাজ করেন। ফলে ফিরোজ নিজের জীবিকা নিশ্চিতের পাশাপাশি স্হানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন।
চিত্র:ফিরোজ ডেইরী এন্ড ভেটেরিনারী কর্ণার চিত্র: ফিরোজ মিষ্টান্ন ভান্ডার
ফিরোজ জানান , খামারের করার শুরুতে তার জ্ঞানের অভাব থাকার কারনে গাভীর লালন পালন,রোগ-ব্যাধি সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষীন হয়েছিলেন। তাই তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় গবাদিপশু পালনের উপর প্রশিক্ষণ নেয়, যা তার খামার পরিচালনাকে সহজ করেছে। এছড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত টিকা , গবাদিপশুর চিকিৎসা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা পায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পশুপালন খাতের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। দেশে মোট দুধের চাহিদার একটি বড় অংশ এখনো আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফিরোজের মতো উদ্যোক্তারা স্থানীয়ভাবে দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছেন। তার ব্যবসার মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়নি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও যোগ হচ্ছে কোটি টাকার প্রবাহ। এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার বিস্তার এবং প্রাণিসম্পদের ওষুধ সহজলভ্য করার মাধ্যমে ফিরোজ প্রত্যন্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
নতুন খামারিদের উদ্দেশ্যে ফিরোজ বলেন,ঘাসের বিকল্প নেই। খামার করার ইচ্ছা থাকলে শুরুতেই ঘাস চাষ করতে হবে। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফল খামারি হওয় সম্ভব। মোনাসেফ হওলাদার ফিরোজ বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও অর্থনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার এই সাফল্যের গল্প বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য হতে পারে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
প্রতিবেদনকারী:
জান্নাতুল ফেরদৌস, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, বরিশাল।
