কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন গ্রামের একজন নিবেদিতপ্রাণ খামারি মো. আবদুল আজিজ। বয়স ৬০ বছর হলেও তিনি আজও নিজ হাতে গরু পালনের কাজ করে চলেছেন। পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানদার হলেও গরু পালন তার নেশা এবং ভালোবাসা। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি গরু পালন শুরু করেন। সেই শুরু থেকেই গরুর প্রতি তার ভালোবাসা ও আগ্রহ দিনে দিনে বেড়েছে।
বর্তমানে আবদুল আজিজের খামারে রয়েছে ৭টি গরু। তিনি প্রতিদিন সকালে দোকানে যাওয়ার আগেই গরুদের যত্ন নেন। গরুদের খাবার হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন ঘাস, খড়, খৈল এবং ভাতের মাড়। এসব খাবার স্থানীয়ভাবে সহজেই সংগ্রহ করা যায় এবং এতে তার অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না। তার মতে, “সঠিক পরিচর্যা করলে সাধারণ খাবারেও গরু সুস্থ ও সবল থাকে।”
গরু পালন করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় আবদুল আজিজ দিশেহারা না হয়ে যোগাযোগ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে। তিনি বলেন, “গরু অসুস্থ হলে আমি দেরি না করে প্রাণিসম্পদ অফিসে ফোন করি। তারা ওষুধ দেয়, পরামর্শ দেয়, কখনো কখনো লোক পাঠিয়ে গরু দেখে যায়। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়।”
সরকারি সেবার সুফল পাওয়ায় তিনি গরু পালনকে আরও গুরুত্ব সহকারে চালিয়ে যেতে পেরেছেন। নিয়মিত টিকা ও চিকিৎসা পেয়ে তার খামারের গরুগুলো সুস্থ থাকে এবং বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়।
প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় তিনি কয়েকটি গরু বিক্রি করে ভালো লাভ করেন। এই আয় দিয়েই তিনি পরিবার চালান, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করেন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটান। গরু পালন তার জন্য শুধু একটি কাজ নয়, বরং এটি তার আত্মনির্ভরশীলতার অন্যতম পথ।
তিনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম নিজের পায়ে দাঁড়াতে। গরু পালনের মাধ্যমে সেটা পেরেছি। আল্লাহর রহমতে কোনোদিন কারও কাছে হাত পাততে হয়নি।”
আবদুল আজিজ মনে করেন, গ্রামের অনেক তরুণই আজ বেকার হয়ে বসে আছে, অথচ তারা চাইলে গরু পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তিনি বলেন, “গরু পালনে একটু পরিশ্রম আছে, কিন্তু এতে লাভও অনেক। যুব সমাজ যদি গরু পালনের দিকে আগ্রহ দেখায়, তাহলে নিজেরা উপার্জন করতে পারবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।”
মো. আবদুল আজিজ আজ শুধু একজন খামারি নন, বরং তিনি দিশাবন গ্রামের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার সফলতা প্রমাণ করে, পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সরকারি সহায়তা থাকলে অল্প খরচে লাভজনক গরু খামার গড়ে তোলা সম্ভব। তার এই যাত্রা বাংলাদেশের হাজারো গ্রামীণ খামারির জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা
