ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ঃ
“Act Now : Protect Our Present, Secure Our Future.” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ থেকে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সচেতনতা সপ্তাহ শুরু হয়েছে । গুরুত্বপূর্ণ এ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভাগীয় পর্যায়ে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে এই সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও উঠান বৈঠক ইত্যাদির আয়োজন করা হবে । এছাড়াও লিফলেট, ফোল্ডার, পোস্টার জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করে এ বিষয়ের জনসচেতনতা তৈরি করা হবে। বিশেষ করে এ সপ্তাহকে যথাযোগ্যভাবে উদযাপনের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিভাগীয় পর্যায়ে সকল পরিচালককে সরকারি নির্দেশনা প্রদান করেন। তাছাড়া এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক আগামী ২৩ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার উপস্থিতিতে মাল্টিসেক্টোরাল স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সচেতনতা সপ্তাহ উদযাপনকে সফল করতে এফএও, ইউএন, ইউকেএইড, দ্য ফ্লেমিং ফান্ড, BARA, ইউএন মাল্টি পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড অফিস, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যানিমেল হেলথ নানা কর্মসূচি পালন করবে।
এ সপ্তাহকে উদযাপনের নিমিত্ত মৎস্য প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট, ফোল্ডা্র, পোস্টার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ।
এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অণুজীব মানুষ, গবাদিপশু ও গাছপালার রোগের কারণ হতে পারে। এই রোগ মোকাবিলার জন্য বিজ্ঞানীরা ওষুধ (অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল) তৈরি করেছেন, যা তাদের বিস্তার রোধ করতে ও কমিয়ে দিতে পারে।
সময়ের সঙ্গে এই অণুজীবগুলো এসব অ্যান্টি মাইক্রোবিয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এমনকি কিছু অণুজীব ‘সুপারবাগ’ হয়ে ওঠে। যার ফলে এদেরকে আর ওষুধ দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় না। ফলস্বরূপ আমরা হাসপাতাল ও লোকালয়ে অধিক হারে এমন সংক্রমণের সাক্ষী হচ্ছি, যার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগগুলোকে প্রাণঘাতী করে তোলার সম্ভাবনা রাখে, তা ‘অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (এএমআর) নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে প্রায় ৫০ লাখ মৃত্যু ঘটে, যা এইচআইভি-এইডস এবং ম্যালেরিয়াজনিত সর্বমোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ১ কোটিতে পৌঁছতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণকে—ক্যানসার—ছাড়িয়ে যাবে।
বিশ্ব অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহের উদ্দেশ্য হলো, এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে জ্ঞান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবাদিপশুর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও মহামারির ঝুঁকি
অ্যান্টিবায়োটিক হলো সর্বাধিক ব্যবহৃত অণুজীবপ্রতিরোধক। ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের তুলনায় গবাদিপশু ও কৃষিতে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
অ্যান্টি মাইক্রোবিয়ালগুলোর মধ্যে ৭৩ শতাংশ গবাদিপশুর জন্য ব্যবহার করা হয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, যা গবাদিপশুদের মধ্যে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়ালের অযৌক্তিক ব্যবহারকে এ ধরণের ওষুধ প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
গবাদিপশুর রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ করতে এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পশুপালনকারীরা অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভর করে—বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে পশুগুলোকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয় এবং যেখানে পশুপালনকারীদের পশুচিকিত্সা করানোর উপায় নেই। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ‘দ্রুত সমাধান’ হিসেবে কাজ করে।
উগান্ডার গ্রামীণ পরিবেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় একজন নারী গবেষকদের জানিয়েছেন, তিনি তার পরিবারের সদস্য এবং মুরগির চিকিৎসার জন্য তার ঘরে থাকা আগের বেঁচে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। অ্যান্টিবায়োটিক পুনঃব্যবহারের এই বিষয়টিকে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকা এবং গবাদিপশুদের জন্য ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিকা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে দেখা হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে খামারের গবাদিপশুদের মধ্যে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বিষয়টি যদি নজরদারি করা না হয়, তাহলে পরবর্তীতে তা মহামারির রূপ নিতে পারে।
