কুমিল্লা, ১৯.১১.২০২৫ খ্রি ঃ
কুমিল্লা সদর উপজেলার কুচাইতলী গ্রামের তাজদিয়া এগ্রো খামারটি এখন জেলার সফল ডেইরি ফার্মগুলোর মধ্যে অন্যতম উদাহরণ। একসময় শখের বশে মাত্র চারটি গরু নিয়ে যে খামারটি শুরু হয়েছিল, আজ ২০ বছরের পথচলায় তা পরিণত হয়েছে আধুনিক ও লাভজনক ৮৫ টি গরুর খামারে। বর্তমানে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে।

খামারের উদ্যোক্তা মাহাবুব মোর্শেদ ২০০৪ সালে মাত্র ১ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে তাঁর এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ২৫টি দুগ্ধবতী গাভীসহ মোট ৮৫ টি গরু রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দৈনিক ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদন ও স্থানীয় চাহিদা পূরণ তাজদিয়া এগ্রোর মূল সাফল্য এর উৎপাদন ক্ষমতা। খামারে প্রধানত উন্নত জাতের ফ্রিজিয়ান গরু পালন করা হয়। এই দুধ কুচাইতলী এলাকার আশপাশের বাড়ি ও স্থানীয় দোকানগুলোতে সরাসরি বিক্রি করা হয়, যা টাটকা দুধের স্থানীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে।
খামারের পরিচর্যায় মোর্শেদের সঙ্গে তিনজন দক্ষ শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা। এবং খামারটিতে লক্ষ্য করা যায় আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে দুধ দহন থেকে শুরু করে গবাদিপশুর যত্নে অন্যান্য সরঞ্জামাদি ব্যবহার করেন।
খাদ্য ও স্বাস্থ্য পরিচর্যায় আধুনিকতা গরুর খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে তাজদিয়া এগ্রো নিজস্ব জমিতে হাইব্রিড জাতের ঘাস উৎপাদন করে। এর পাশাপাশি খড়, ভুসি, খৈল এবং ভুট্টা দিয়ে সুষম খাবার নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়ে মোর্শেদ অত্যন্ত সচেতন। তিনি নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ রাখেন এবং গরুর জন্য নিয়মিত ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেন। যদিও খামারটিতে ইতোপূর্বে এফএমডি (Foot-and-mouth disease) এবং ম্যাস্টাইটিস এর মতো রোগ দেখা দিয়েছিল, তবে সময়মতো প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। গরুগুলো স্থানীয় গরুর বাজার থেকেই ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশায় মোর্শেদ জানান, শুধু গরু নয়, পাশাপাশি তিনি ১৫টি হাঁসও পালন করেন। ৭ সদস্যের পরিবারকে নিয়ে তিনি এই খামারের মাধ্যমেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “যদি সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে খামারের পরিধি আরও বাড়াতে চাই। এতে এলাকার আরও কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দুধের উৎপাদনও বাড়বে।”

পরিদর্শন শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে খামার মালিককে প্রদান করা হয়। তাজদিয়া এগ্রোর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস, যারা দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
প্রতিবেদনকারী:
খালেক হাসান,কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা
৪ টি গরু দিয়ে শুরু, এখন দৈনিক ৪ শ লিটার দুধ সরবরাহ করে খামারটি
শখের বসে এখন ৮৫ টি
23
