মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নিজস্ব খামার পরিচালনার পাশাপাশি অন্য খামারিদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান ও পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সফল উদ্যোক্তা মো. বাছির আহাম্মদ বসির। তিনি কেবল নিজে স্বাবলম্বী হননি, নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সানরাইজ এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
বশির আহমদ জানান, ২০০৯ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ খাতে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজে খামার গড়ে তোলার পাশাপাশি মৎস্য ও পোল্ট্রি-ডেইরি খাদ্য ও ঔষধ বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘সানরাইজ এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্থানীয় পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা।

সানরাইজ এন্টারপ্রাইজে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন ও পুরোনো খামারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য আসেন। বাছির আহাম্মদ বসির খামারিদের সমস্যা গুরুত্ব সহকারে শুনে বিনাখরচে সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। খামারিদের সঙ্গে দূরত্ব, দূর করে তিনি গড়ে তুলেছেন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এছাড়া সরকারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিস এবং বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দেন। এবং খামারিদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে ভূমিকা রাখছেন।
মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাছির আহাম্মদ বসির বেশ কয়েকটি সরকারি সম্মাননা অর্জন করেছেন:
২০১৯: উপজেলা মৎস্য দপ্তর, ব্রাহ্মণপাড়া কর্তৃক ‘আদর্শ মৎস্য খাদ্য ব্যবসায়ী’ হিসেবে সম্মাননা স্মারক অর্জন।
২০২২: জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে মাঠ পর্যায়ে সেরা ‘সেবাদানকারী মৎস্য উদ্যোক্তা’ সম্মাননা।
২০২৪: জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মাঠ পর্যায়ে সফল মৎস্যচাষী ও পরামর্শদানকারী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা স্মারক লাভ।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মৎস্য ও প্রাণী সম্পদে আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাঁকে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মুদ্রণ সামগ্রী প্রদান করা হয় এবং তাঁর এই সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোক্তা সত্ত্বাকে সাধুবাদ জানানো হয়।
প্রতিবেদক :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অংশীজন বাছির আহাম্মদ বসির এর গল্প
3
previous post
