রাজশাহীর পবা উপজেলায় নওহাটায় শাহপারা শ্রী কানাই কুমার সাহা ব্যবসার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ২০১৬ সালে মার্চ মাসে চারটি গরু দিয়ে একটি খামার শুরু করেন । বর্তমানে তার খামারে ৮টি ষাঁড় গরু ও চারটি গাভি এবং দুইটি এরে দুইটি বকনা বাছুর আছে। কানাই কুমার সাহা বলেন কুরবানীর সময় তার খামার থেকে চারটি গরুর বিক্রি করেন যা থেকে তার ২ লাখ টাকা লাভ হয়।
খাবার ব্যবস্থাপনার সম্পর্কে কানাই কুমার সাহা কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এক বিঘা জমিতে উন্নত মানের ঘাস করেন যেমন নেপিয়ার, জাম্বু ,পারা ,ভুট্টা ঘাস চাষ করে সাইলেস তৈরী করেন। ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি তিনি দানাদার খাদ্য হিসেবে চলের গুড়া,গমের ভুষি,ফিড,ও ভুট্টার গুড়া,খৈল,খাওয়ানো হয়।
খামার বাসস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কানাই কুমার শাহ বলেন, প্রত্যেকদিন আমি এবং আমার ছেলে দুইজন খাবার থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিচর্যা যেমন, খামার পরিষ্কার পরিছন্ন করি এবং খামারের আশপাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করি এরপরে অতিরিক্ত গরমের জন্য দিনে দুইবার গবাদিপশুকে গোসল করানো হয় ফলে গবাদিপশুর অনেক উপকার পায়। প্রতিদিন চারটি গাভি থেকে ৮০ লিটার দুধ পায় এবং বাসা থেকে তিনি প্রতি লিটার দুধ ৭৫ টাকায় বিক্রি করে থাকেন । বাৎসরিক খামারে ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে খাবার ও মেডিসিন বাবদ খরচ হয় ৫ লক্ষ টাকা এবং বাৎসরিক খামার থেকে আয় আসে ২ লক্ষ টাকা কাঁচামাল ব্যবসা থেকে আসে এক লক্ষ মোট তিন লক্ষ টাকা আয় হয়।খামারে গবাদিপশুর রোগব্যাধি সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রী কুমার সাহা বলেন,খামারে কোন গরু অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা তিনিই করেন। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করেন এবং কখনো কখনো স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন।
প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,কোন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন নি,তবে সুযোগ পেলে তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন এমনটাই আমাদের জানিয়েছেন ।
পরিশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর ,অঞ্চলিক অফিস রাজশাহী থেকে গাভী পালন,ছাগল পালন,সবুজ ঘাস সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ,গবাদিপশুর সুষম খাবার তৈরির উপকরণ ও খাওয়ানোর নিয়মাবলী উন্নত জাতের গাছ চাষ বিষয়ক লিফলেট ও ফোল্ডার বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
মোঃ ছামছুল হক
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগটক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর,
আঞ্চলিক অফিস,রাজশাহী।