কুমিল্লার ধান্যদৌল গ্রামে অবস্থিত ‘আইডিয়াল ডেইরি ফার্ম’। মাত্র ৬টি গরু নিয়ে প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ২০১৭ সালে এই ডেইরি খামার শুরু করেছিলেন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সরকার। শ্রম আর একাগ্রতায় বর্তমানে তার খামারে গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে, যার মধ্যে ২১টি উন্নত হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী এবং ৩টি ষাঁড়। তবে খামার পরিচালনার এই পথটি সব সময় মসৃণ ছিল না। রোগব্যাধি আর আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েও আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তায় তিনি এখন শক্ত হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। 
বর্তমানে আইডিয়াল ডেইরি ফার্মে প্রতিদিন গড়ে প্রতি গাভী থেকে ২০ লিটার করে মোট প্রায় ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। খামারটিতে গমের ভূষি, সয়াবিন ও মটরশুঁটির সুষম মিশ্রণে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয় সাথে কাঁচা ঘাস। ৩ জন নিয়মিত কর্মচারীর পাশাপাশি প্রবাস ফেরত গিয়াস উদ্দিন সরকার নিজেই খামারটির সার্বিক তদারকি করছেন।
গত বছর খামারে ক্ষুরা রোগ (FMD) এবং লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD)-এর প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে খামারের ৬টি গরু মারা যায় এবং বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাকে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়ম মেনে খামারের সব গরুকে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেন তিনি। বর্তমানে খামারের গরুগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন সরকার ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (LDDP)-এর আওতায় সরকারি ‘ডেমোশেড’ সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিকে গরু মোটাতাজাকরণ, গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকারসহ খামার ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রকাশিত সচেতনতামূলক বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যা খামারের সঠিক ও নিরাপদ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদ খাত এখন কেবল গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ নয়, বরং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার এক বিশাল ক্ষেত্র। তবে খাদ্যের ঊর্ধ্বমূল্য এবং আধুনিক টেকসই জ্ঞানের অভাবই এখন নতুন খামারিদের মূল চ্যালেঞ্জ।
বেকার যুবকদের এই খাতে আসা উচিত কি না? এ বিষয়ে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে খামারি গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, “বেকার যুবকরা এই পেশায় এলে অবশ্যই লাভবান হতে পারবে। তবে শুরুতেই বড় আকারে বিনিয়োগ না করে, পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। শুরুতে কম সংখ্যক গরু নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করলে সহজে ও নিরাপদে লাভবান হওয়া সম্ভব।”
সঠিক পরামর্শ, সময়মতো টিকাদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করলে ডেইরি খাত বাংলাদেশের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং জাতীয় আমিষের চাহিদা পূরণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদক:
খালেক হাসান
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা
প্রবাসজীবনের পর ডেইরিতে বাজিমাত
4
previous post
