বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডেইরি ফার্ম বা গবাদি পশু পালন এখন একটি সম্ভাবনাময় খাত। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে বহু মানুষ এই পেশায় এসে সফল হচ্ছেন। তেমনই একজন সফল উদ্যোক্তা হলেন জয়নুল আবেদিন। শখ ও উদ্যমকে পুঁজি করে শুরু করা তার গরুর খামারটি আজ এলাকার বেকার যুবকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জয়নুল আবেদিন ২০১৭ সালে মাত্র তিনটি গাভী দিয়ে নিজের এলাকায় এই খামারটি শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজ তার খামারে গরুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টিতে। বর্তমানে তার খামারে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও দেশি জাতের উন্নতমানের গরু লালন-পালন করা হচ্ছে।

গরুর সুস্বাস্থ্য এবং অধিক দুধ উৎপাদনের জন্য খাদ্যের মানের দিকে বিশেষ নজর দেন এই উদ্যোক্তা। খামারের গরুগুলোকে ছোলা, ভুসি, খৈল, সয়াবিনের পাশাপাশি নিজের জমিতে উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের পুষ্টিকর কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়। খামার পরিচালনার জন্য একজন নিয়মিত কর্মচারী রয়েছেন, যিনি মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
যেকোনো খামারেই রোগবালাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জয়নুল আবেদিনের খামারেও অতীতে খুরা রোগ (FMD) এবং লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD)-এর মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে সরকারি প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের সুবাদে তিনি দ্রুত প্রতিকার পেয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, খামারে কোনো পশুর অসুস্থতার খবর দিলেই সরকারি অফিস থেকে দ্রুত ডাক্তার এসে চিকিৎসা প্রদান করেন, যা খামারিদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।

খামার থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২২ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত এই দুধ স্থানীয় দোকানে বিক্রির পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও মেটাচ্ছে। গরু পালনের পাশাপাশি জয়নুল আবেদিন পেশায় একজন হাসপাতালের ব্যবসায়ীও বটে। তার চার সদস্যের পরিবারে এই খামার বাড়তি স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।
বেকারত্ব দূরীকরণে ডেইরি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে জয়নুল আবেদিন নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বেকার যুবকরা যদি শুরু করতে চান, তবে বড় পরিসরে না গিয়ে প্রথমে কম পরিসরে শুরু করা উচিত। পাশাপাশি ভালো জাতের গাভী নির্বাচন করতে হবে। ধৈর্য ও সঠিক পরিচর্যা নিয়ে এগোলে যে কেউ লাভবান হতে পারবেন।” সবশেষে হাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত গবাদি পশু লালন-পালন বিষয়ক মূল্যবান মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়, যা তার খামার ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত করতে সহায়তা করবে।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
