বেকারত্বকে পেছনে ফেলে স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সিদলাই গ্রামের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ স্বপন। নিজের মেধা, পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে গড়ে তুলেছেন একটি সম্ভাবনাময় গবাদি পশুর খামার। আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে শুরু করা এই খামারটিই এখন তার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান হাতিয়ার।
খামার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্বপনের খামারে মোট ১৯টি গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাংস উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতকৃত বেশ কিছু মোটাতাজাকরণ গরু এবং ৫টি দুধের গাভী ও ৩টি ফুটফুটে বাছুর। খামারের প্রতিটি পশুর খাবারের বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল এই খামারি। তিনি জানান, গবাদি পশুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে তিনি নিজ ক্ষেতে চাষকৃত পুষ্টিকর কাঁচা ঘাস, খৈল, ভূষি এবং পাশাপাশি কিছু বাইরের দানাদার খাবারও সরবরাহ করে থাকেন। প্রতিদিনের নিবিড় পরিচর্যার বিষয়ে স্বপন বলেন, “আমি নিজেই আমার খামারের সমস্ত দেখাশোনা করি। লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত এই গবাদি পশু লালন-পালন শুরু করেছি এবং আল্লাহর রহমতে আমি বেশ আশাবাদী।”
রোগবালাই মোকাবিলা ও সরকারি সেবা
যেকোনো খামারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ। স্বপনের খামারটিও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ইতিপূর্বে তার খামারে গবাদি পশুর অন্যতম মারাত্মক রোগ ‘খুরা রোগ’ এবং ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ (Lumpy Skin Disease)’ দেখা দিয়েছিল। তবে তিনি ভেঙে না পড়ে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগগুলো সফলভাবে নির্মূল করতে সক্ষম হন।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে তিনি মাঝে মাঝে সেখানে যান এবং সেবা নেন। তার এই প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে নিজের খামারটিকে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করার জোরালো ইচ্ছা রয়েছে উদ্যোক্তা স্বপনের। এলাকার বেকার যুবকদের উদ্দেশে তার মূল্যবান পরামর্শ ”কেউ যদি গবাদি পশু লালন-পালনের মাধ্যমে ভাগ্য বদলাতে চান, তবে শুরুতে অধিক পুঁজি বা বড় পরিসরে না গিয়ে কম সংখ্যক পশু দিয়ে শুরু করা উচিত। এতে অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।” মোহাম্মদ স্বপনের মতো উদ্যোক্তাদের সফলতাই দেশের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। তার এই উদ্যোগ এলাকার অন্য তরুণদের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
