21
০৮/০৭/২০২৫ খ্রি.
রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা পাপন সরকার মাছ চাষে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। একসময় ছোট পরিসরে শুরু করলেও এখন তিনি ৩ একর ৭৫ শতাংশ জমির মাছের খামার পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা । এলাকার অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
২০২০ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি লিজকৃত পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন পাপন। ধাপে ধাপে ব্যবসা বাড়িয়ে এখন তার নিজস্ব একটি পুকুর ও তিন একর ৭৫ শতাংশ জমির উপর একটি বড় খামার রয়েছে। তার খামারে দেশীয় ছোট মাছসহ রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, কালবোস, লালোটিয়া এবং বাটা মাছ চাষ করা হয়। পাপন বলেন, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তিনি আজ সফল উদ্যোক্তা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকারও বেশি। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তার ছোট ভাই ফরিদুল ইসলামসহ পাঁচজন শ্রমিক সার্বক্ষণিক তার খামারের দেখভাল করেন।প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা তার খামার থেকে মাছ ক্রয় করেন এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। রঞ্জিত রায় নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে পাপনের খামার থেকে মাছ কিনে তিনি লাভবান হচ্ছেন এবং তার সংসারও চলছে এই ব্যবসার মাধ্যমে।পাপন চান তার খামার আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে। তিনি বলেন, সরকার যদি সাহায্য করে তাহলে আশপাশের পতিত জমিতে আরও পুকুর তৈরি করবেন এবং অধিক পরিমাণে মাছ উৎপাদন করবেন, যা আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া, মাছের খাদ্যের ওপর কর কমানোর জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পাপন মনে করেন, চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হলে যেমন নিজে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তেমনি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তার সাফল্য দেখে অনেকে মাছ চাষে উৎসাহী হচ্ছেন, যার মধ্যে মাইদুল ইসলাম একজন, যিনি পাপনের পরামর্শ নিয়ে নিজেও মাছের খামার গড়ে তুলেছেন।
পাপনের এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের জন্যই নয়, বরং এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার সাফল্যের গল্প নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
পরিশেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, রাজশাহী থেকে পাপন কে মাছচাষ বিষয়ক বিভিন্ন লিফলেট, ফোল্ডার বিনামূল্যে বিতরণ করে, মাছচাষ ও মাছের যেকোন রোগের লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, রাজশাহী থেকে ২ জন কর্মচারী খামারটি পরিদর্শন করেন।
মো. খাদেমুল ইসলাম
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরআঞ্চলিক অফিস , রাজশাহী।
মৎস্য চাষি পাপনের বার্ষিক আয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা
next post
