চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা আবুল কালাম। পেশায় একজন পানি বিক্রেতা। শখের বশে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় হাঁস ও মুরগি পালনের জন্য অন্যের পরিত্যক্ত একটি ডোবা ও কিছু জায়গা মাসে ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নেন তিনি। শুরুতে ১৫০ জোড়া হাঁস ও ৫০ জোড়া দেশি মুরগির বাচ্চা কিনেন। খরচ পড়ে ৯০ হাজার টাকা। ধীরে ধীরে এক বছরে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা তিন শতাধিক এবং মুরগি দুই শতাধিকে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন হাঁস থেকে ১৬৩টি ও মুরগি থেকে ৪০টির মতো ডিম পেতে তিনি। হাঁসের ডিম প্রতিটি ১৭ টাকা ও মুরগির ১৬ টাকায় বিক্রি করতেন। এতে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকায় আয় হতো তার। শুধুমাত্র ডিম বিক্রি করেই তিনি পুঁজি তুলে ফেলেন।এর মধ্যে হঠাৎ অজানা রোগে হাঁসগুলোর ঘাড় বাঁকা হয়ে দুইদিনে মারা যাওয়া শুরু করে। এভাবে এক সপ্তাহে ৪০টিরও বেশি হাঁস মারা যায়। এরপর উপায় না দেখে অবশিষ্ট হাঁসগুলো জোড়া ১২০০ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। সেখানেও তার ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা লাভ হয়। আর ৮০০ টাকা কেজিতে দেশি মুরগি বিক্রি করেন। ৫০টি মুরগি থেকে তার লাভ হয় ৪০ হাজার টাকা। আবুল কালাম বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের ঝামেলা ও জায়গার সংকট থাকার কারণে বড় পরিসরে হাঁস-মুরগি পালন করতে গিয়ে নানান সমস্যায় পড়তে হয়। তবে যে কেউ পর্যাপ্ত পরিমাণ খোলামেলা পুকুরসহ জায়গা পেলে, সেখানে খামার গড়ে হাঁস-মুরগি পালন করতে পারবেন। আর এতে বছরে বেশ ভালোই লাভবানও হবেন।’ আবুল কালামের মতো বহু তরুণ উদ্যোক্তা এখন পোল্ট্রি খামার, কৃষি ও মাছ চাষে ঝুঁকছে। সমুদ্র উপকূলঘেঁষা পতেঙ্গায় সবজি চাষাবাদের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম। তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকে এখন গরু-ছাগল পালন থেকে শুরু করে হাঁস-মুরগির পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলেছেন। সমুদ্র সংলগ্ন পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর ও হালিশহরের বিভিন্ন এলাকায় তিন দশক আগেও ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমে সবজির বেশ ফলন হতো। যা পুরো নগরের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি জমি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেকটা প্রতিকূল পরিবেশে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে এখানকার কৃষকদের। তবে আশা আলো দেখাচ্ছে এখানকার নতুন এগ্রো উদ্যোক্তারা। তবে এসব এগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তাদেরও বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ পোহাত হচ্ছে। তারা কোনো ধরনের বীমা সুবিধা তো পাচ্ছেনই না বরং পশু খামারকে কৃষি খাতের বাইরে রাখায় বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি বোঝা টানতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিন এসব এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কন্টেইনার ডিপো, সরকারি, বেসরকারি স্থাপনার জন্য এখানকার কৃষি জমি অধিগ্রহণসহ দখল-দূষণে তলানিতে এসে ঠেকেছে কৃষিখাত। এছাড়া লবণাক্ততা, ডিপ সেচ না থাকা, ঋণের সুবিধা না থাকা, সরকারি নজরদারির ও কৃষি অধিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা কারণে তরুণ উদ্যোক্তাদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি খামার বন্ধও হয়ে গেছে। বন্দর-পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় জিইএম কলোনি; পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বাংলাদেশ নেভি, বিমান বাহিনী, রেলওয়ে, ডিসি পার্কসহ সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা লিজ নিয়ে অনেকে মাছের চাষ শুরু করেছেন।
