ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় একসময় প্রচুর বনমোরগ থাকলেও এখন তেমন দেখা মেলে না। প্রবা ফটো
গাছে গাছে উড়ে বেড়ায়। নিজেকে আর নিজের ছোট ছোট বাচ্চাকে রক্ষার প্রয়োজনে হয়ে ওঠে হিংস্র। লেজের দুটি পালক মাত্রাছাড়া লম্বা। এমন সুন্দর ভূচর পাখি বনমোরগ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে। বনাঞ্চলে বাস করলেও এই পাখির আকার-আকৃতি-দৈহিক গঠন অনেকটা দেশি মোরগের মতোই। কিন্তু স্বভাব আবার একেবারে উল্টো। পাহাড়-টিলা আর চা-বাগান এলাকায়ও বসবাস করে বনমোরগ। মাঝেমধ্যেই দেখা যায় দলবদ্ধভাবে বেরিয়েছে খাবারের সন্ধানে। বনমোরগের প্রধান খাদ্য বনের পোকামাকড় ও ফলমূল। গাছের পাকা ফল মাটিতে পড়ার আগেই লাফিয়ে তা গিলে ফেলতে পারে এই পাখি।
ফ্যাসিয়ানিডি গোত্রের অন্তর্গত একটি পরিচিত প্রজাতি বাংলায় সুপরিচিত লাল বনমোরগ, যা লাতিন ভাষায় গ্যালাস গ্যালাস ও ইংরেজিতে রেড জাঙ্গলফল নামে পরিচিত। গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই বনমোরগই পৃথিবীর মোরগ-মুরগি প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো। বনমোরগ প্রজাতির কিছু কিছু পাখি মানববসতির আশপাশে বসবাসের মধ্য দিয়ে কালক্রমে দেশীয় বা গৃহপালিত প্রজাতি হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দশক ধরে বনমোরগের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। তবে এখনই তা আশঙ্কজনক বলা যাবে না। বনমোরগকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় গবেষণা করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তর।
বনমোরগের আকৃতি মাঝারি আকারের। এ প্রাণীটির শরীরে বাহারি রঙের পালক দেখা যায়। লাল, কালো, সোনালি, কমলা, হলুদ, বাদামি প্রভৃতি রঙের পালক বনমোরগের শরীরকে আবৃত করে রাখে। একসময় সারা বাংলাদেশেই বনমোরগের দেখা পাওয়া যেত। বন উজাড়, নানা ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা এবং মানুষের খাদ্যতালিকাভুক্ত হওয়ায় ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এই পাখি।
মৌলভীবাজার জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পাথারিয়া বনাঞ্চল, বড়লেখার লাঠিটিলা বনাঞ্চল, বালিশিরা পাহাড় ছাড়াও হবিগঞ্জ জেলার সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে এবং চা-বাগান এলাকায় একসময় প্রচুর পরিমাণে বনমোরগের বাস ছিল। এখন আর এসব বনাঞ্চলে বনমোরগের তেমন একটা দেখা মেলে না। একদিকে বনাঞ্চলে এদের নিরাপদ বসবাসের স্থান কমে যাওয়া; অন্যদিকে বনাঞ্চল ও আশপাশের মানুষদের শিকারে পরিণত হওয়ায় এটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, পূর্ব তিমুর, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, লাউস, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ঘন বনের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বনমোরগ দেখা যায়।