২০.১০.২০২৪ খ্রি. তারিখ
রাখি রানী সরকার কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০০৮ সালে কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে বি.বি. এ পাশ করেন। পেশায় তিনি একজন গৃহিনী । রাখি রানী সরকারের রয়েছে ২ ছেলে ১ মেয়ে । তার স্বামী প্রবাসী ।
রাখি রানী সরকার ২০১৬ সালে ৮ টা গাভী দিয়ে তার খামারের যাত্রা শুরু করেন। মাত্র আট বছরের ব্যবধানে তার খামারে গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ টি। ৮ টা গুরু থেকে পাওয়া ষাঁড় গরু গুলো তিনি করবানীর ঈদে বিক্রি করেন। আর এঁড়ে বাছুর গুলো তিনি খামারে রেখে দেন। প্রতি বছরই কুরবানীর ঈদে তিনি ষাঁড় গরু বিক্রি করেন। ২০২৪ সালে কুরবানীর ঈদে রাখি রানী সরকার ১৫ টি ষাঁড় গরু বিক্রি করে ১৩ লক্ষ টাকা আয় করেন।
রাখি রানী সরকারের কাছে তার খামারের ধারণ ক্ষমতা সর্ম্পকে জানতে চইলে তিনি বলেন , তার খামারে ৩০ টি গরুর পালন করা যাবে । তার গরুর খামারের পাশাপাশি ৩০ টি হাঁস ও ৭ টি ভেড়া রয়েছে ; যা তিনি শখের বসে পালন করেন।
রাখি রানী সরকারকে খামার করার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কিভাবে আসলো তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আমাদের বলেন , ছোটবেলায় তার বাবাকে গরু পালন করতে দেখতেন। গরুর পালনের আয় দেখে তিনি ও স্বপ্ন দেখতেন গরু খামার করবেন । তাই বিয়ের পর তার স্বামীর সহযোগিতায় ছোট একটা খামার করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাখি রানী সরকার বলেন, তার খামারকে আরো বড় পরিসরে করা এবং দোকানের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তার ।
খামার ব্যাবস্থাপনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার খামারে ৭ টা গাভী দুধ দেয়, বাচ্চা ৫টি, গর্ভবতী ৬টা গরু রয়েছে। গাভী গুলোকে পরিচর্যা ও যত্ন করার জন্য ২ জন শ্রমিক কাজ করেন। গরুকে তারা নিয়মিত খাবার ও গোসল করান। খাদ্য হিসেবে চাউলে কুঁড়া, ভূষি, খৈল, সবুজ ঘাস ও খড় খাওয়ান। খড়ের জন্য ধান চাষ করেন এবং ঘাসের জন্য জমিতে নেপিয়ার ও নেপিয়ার পাকচং চাষ করেন। খামারে উৎপাদিত দুধ তিনি তার নিজ মিষ্টি ভান্ডার পদ্ম মিষ্টি বাড়ী নামে দোকানে দুধের যোগান দেন । খামারের বর্জ্য অপসারণের জন্য রয়েছে পাকা ড্রেন। খামারের ফ্লোর সপ্তাহে ১ দিন ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধৌত করেন। পানি দিয়ে প্রতিদিন ২ বার ধৌত করেন।
রাখি রানী সরকার শুধু একজন সফল খামারি নয়, তিনি এখন এক অনুপ্রেরণা সকলের নিকট। তার সহস ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে গ্রামে নতুন প্রজন্ম আজ গরু পালনে আগ্রহী হচ্ছে। রাখি রানী সরকারের খামার এখন একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্টিত হয়েছে।
খামারের রোগবাধি সর্ম্পকে জানতে চাইলে, রাখি রানী সরকার বলেন খামারের কোন গরু অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকৎসা খামার পরিচর্যা কর্মী করেন। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করেন এবং কখনো কখনো স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন।
প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন নি, তবে সুযোগ পেলে তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন।
সবশেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাকে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন লিফলেট প্রদান করা হয় এসাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় । পাশাপাশি “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য ভান্ডার”“এ্যাপস” “নিউজ পোর্টাল”ও “পেইজ ” সম্পর্কে ও অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনকারী :
সুরাইয়া আক্তার
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা