মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূলধন ও একটি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন বরিশালের রূপাতলীর উদ্যমী খামারি মো. মোনাসেক হাং ফিরোজ। আজ তার “ফিরোজ ডেইরি ফার্ম”-এ রয়েছে ৩৫টি গাভী, যার মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রিজিয়ান সংকর ও জার্সি সংকর জাতের গরু রয়েছে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয় এই খামার থেকে।
তিনি খামারে ঘাস উৎপাদনে দিয়েছেন বিশেষ গুরুত্ব। নেপিয়ার, জার্মান, অজানা ও জারা ইত্যাদি জাতের ঘাস নিজেই চাষ করে গবাদিপশুকে পর্যাপ্ত ও সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করছেন। গরুর খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, কুঁড়া ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান।
ফিরোজ ডেইরি ফার্ম থেকে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। এই দুধ সরবরাহ করা হয় বরিশাল শহরের বিভিন্ন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সরাসরি গ্রাহক এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠান—ফিরোজ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার—এ।
ফিরোজ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার
নিজস্ব দুধ ব্যবহার করে তৈরি হয় দই, রসমালাই, ছানা ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। খাঁটি দুধের স্বাদে এসব মিষ্টি এলাকাবাসীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ফিরোজ ভ্যাটেরিনারি মেডিসিন কর্নার
গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সবধরনের ওষুধ পাওয়া যায় তার প্রতিষ্ঠিত “ফিরোজ মেডিসিন কর্নার”-এ। খামারি ও সাধারণ পশুপালকদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা
খামার শুরুর পর নানা সমস্যার সম্মুখীন হন ফিরোজ, বিশেষ করে পশুর রোগব্যাধি সংক্রান্ত জটিলতায়। কিন্তু তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক পশুপালন ও চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও সেবা গ্রহণ করেন তিনি।
নতুন খামারিদের জন্য পরামর্শ
ফিরোজ হাং ফিরোজ নতুন খামারিদের উদ্দেশ্যে বলেন—
“ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। ঘাস চাষ করুন, সুষম খাদ্য নিশ্চিত করুন। তবেই সফলতা আসবে।”
বরিশালের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ফিরোজ ডেইরি ফার্ম এখন এক অনুকরণীয় নাম। আত্মকর্মসংস্থানে আগ্রহী যুবকদের জন্য এটি হতে পারে একটি সফলতার পথনির্দেশ।
প্রতিবেদনকারি
জান্নাতুল ফেরদৌস, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস,বরিশাল
