রাজশাহী , ২৮/১০/২০২৫ খ্রি.
রাজশাহী সদর বোয়ালিয়া থানার হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন। পেশায় একজন শিক্ষক হলেও এলাকার সবার কাছে তাঁর পরিচিতি খামারি হিসেবে। প্রায় ১৫ বছর আগে মাত্র দুটি গরু দিয়ে তাঁর বাড়িতে একটি খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন সেই খামারে গাভি-ষাঁড় মিলিয়ে রয়েছে মোট ১৫ টি । স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বোরহান অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও পরিশ্রমের জোরে সফল খামারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিদিন সেখানে প্রায় ১৭০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয় । প্রতিবছর আয় হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা ।
বোরহানের খামারে ১৫ টি গরুর মধ্যে বাছুরসহ গাভি রয়েছে ১২ টি। এসব গাভি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৭০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। খামারে দুধ ও ষাঁড়-গাভি বিক্রি করে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার আয় হয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গরু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত । প্রায়ই তাঁর কাছে গিয়ে খামারসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খামারটিতে উৎপাদিত দুধের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । খামারে দুধ সংগ্রহ করা হয় সকালে ও বিকেলে। দুধ দোহানোর আগেই খামারের সামনে দুধ কেনার জন্য ভিড় করেন এলাকার বাসিন্দারা। বোরহান নিজের বাড়ির ওই খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ লিটার দুধ বিক্রি হয়। বাকিটুকু বাজারে বিক্রি করা হয়। খামারটির দুধের মান ভালো হওয়ায় বাজারেও লোকজন খামারটিতে উৎপাদিত দুধের জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
বোরহান ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। ২০১০ সালে মাত্র দুটি গরু নিয়ে খামারটির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। পরিকল্পিত উপায়ে খামার পরিচালনা করায় এতে বেশ সফল হোন বোরহান। তাঁর খামারে এখন ১৫ টি গরুর সঙ্গে কয়েকটি ভেড়া ও ছাগলও রয়েছে।
খামারের বিষয়ে বোরহানের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা গরু পালন খুব পছন্দ করেন । তিনি মনে করেন আধুনিক ও পরিকল্পিত উপায়ে খামার গড়া হলে সফলতা আসবেই। আমাদের খামারের উৎপাদিত দুধের প্রশংসা করেন সবাই। এটি খুব ভালো লাগে।
বোরহান জানান, বর্তমানে সব খরচ বাদে শুধু গরুর খামার থেকে বছরে ৪ লাখেরও বেশি টাকা আয় হয়। গরু, খামারে ১ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
খামারের প্রধান কর্মী কবির হোসেন বলেন, ‘সাত-আট বছর ধরে এই খামারে কাজ করি। অন্য যেকোনো খামারের তুলনায় এই খামারে শ্রমিকের বেতন বেশি। এখানে কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাইতেছি।
বোরহানের খামারটিকে একটি আদর্শ খামার বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন। বোয়ালিয়া সদর এলাকার হড়গ্রাম এলাকার খামারি আব্দুল বারেক বলেন, তিনি নিজেও ওই খামারে গিয়ে নানা পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন।
পরিশেষে, দেশি মুরগি পালন, গাভী পালন, ছাগল পালন, সবুজ ঘাস সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, গবাদি পশুর সুষম খাবার তৈরীর উপকরন, সহ সকল প্রকার লিফলেট, ফোল্ডার বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, আঞ্চলিক অফিস, রাজশাহীর থেকে খামারটি পরিদর্শন করা হয় ।
প্রতিবেদনকারী
মো. খাদেমুল ইসলাম
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
আঞ্চলিক অফিস, রাজশাহী।
