অদ্য-১৫.০১.২০২৫খ্রি.
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী মামুনুর রশীদ ইয়াছিন একজন সফল খামারি ও ব্যবসায়ী। পেশাগত জীবনে একজন ব্যবসায়ী হলেও তার প্রকৃত সফলতার গল্প লুকিয়ে রয়েছে তার পরিকল্পিত খামার ব্যবস্থাপনার মধ্যে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শুরু করেছিলেন গরু, হাঁস, ও মুরগির খামার। আজ এই খামারই তাকে একটি নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে।
হাজী মামুনুর রশীদের খামার শুরু হয় দশ বছর আগে মাত্র ২০টি গরু দিয়ে। তার স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক, পরিকল্পিত এবং লাভজনক খামার গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৮০টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ফ্রিজিয়ান জাতের এবং অল্প কিছু জার্সি ও সংকর জাতের। উন্নত জাতের গরু পালনে তিনি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন।
গরু পালনে খাদ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার খামারের গরুগুলোর জন্য সবুজ ঘাস, খড়, চাউলের কুঁড়া, সয়াবিন, ভুষি, ও খৈল সরবরাহ করা হয়। সবুজ ঘাসের চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি নিজের ৫ শতক জমিতে ঘাসের চাষ করেছেন। এতে করে তিনি খামারের খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। খাদ্য সরবরাহের প্রতিটি ধাপে তিনি অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ করেছেন, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গরুর প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করেন।
গরুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে হাজী মামুনুর রশীদ সবসময় সচেতন। তার খামারে প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে, যারা নিয়মিত গরুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে। কোনো গরু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কখনো তারা নিজেরাই চিকিৎসা দেন, আবার জটিলতার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নেন।
গরুর খামারের পাশেই তিনি গড়ে তুলেছেন মুরগি ও হাঁসের খামার। মুরগি পালনে তার সূচনা হয়েছিল ৫০টি সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা দিয়ে। নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার ফলে বর্তমানে তার মুরগির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মজার বিষয় হলো, মুরগির জন্য তিনি আলাদা করে কোনো খাদ্য কিনেন না। গরুর খামারের মেঝেতে পড়ে থাকা খাবার কুঁড়িয়ে মুরগিগুলো নিজেদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। এতে খরচ কমানোর পাশাপাশি এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়ে খামার পরিচালনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, হাঁস পালনের জন্য তিনি গরুর খামারের পাশে একটি ছোট পুকুর তৈরি করেছেন। পুকুরে হাঁসগুলো সাঁতার কাটে ও খাদ্য হিসেবে শুধু ভুষি খায়। সহজলভ্য ও কম খরচের এই ব্যবস্থাপনায় তার হাঁসের খামারও লাভজনক হয়ে উঠেছে।
তার খামারের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ জনবল নিয়োজিত রয়েছে। তারা গরুর খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে হাঁস-মুরগির দেখাশোনাও তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এদের সঠিক ব্যবস্থাপনায় খামারটি একটি সফল মডেল হয়ে উঠেছে।
হাজী মামুনুর রশীদ তার খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও গরু, হাঁস, ও মুরগি পালনের মাধ্যমে খামারের পরিসর বৃদ্ধি করতে চান। পাশাপাশি খামারের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তার এই খামার শুধু তার নিজের জীবনই বদলে দেয়নি, বরং এলাকার অনেক বেকার যুবকের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। অনেকেই তার কাছ থেকে খামারের কৌশল শিখে নিজেদের খামার শুরু করেছেন।
সবশেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাকে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন লিফলেট প্রদান করা হয় এসাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় । পাশাপাশি “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য ভান্ডার” “এ্যাপস” “নিউজ পোর্টাল”ও “ফেসবুক পেইজ ” সম্পর্কে ও অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনকারী :
সুরাইয়া আক্তার
কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা