১৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কুচাইতলী গ্রামের মো. কালাম এক সময় কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। পরবর্তীতে নানা চড়াই- উতরায় পেরিয়ে ‘নতুন আলো এগ্রো এন্ড ফিসারিজ ফার্ম’ নামে খামার গড়ে তোলেন। খামারটিতে এখন একাধারে মাছ, গরু ও মুরগি পালন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে এই খামার থেকে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১৯ সালে মাত্র কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার খামার ছয় একরেরও বেশি এলাকায় বিস্তৃত। রয়েছে ১৬ জন শ্রমিক।
প্রাথমিকভাবে মাছ চাষ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দুই বছর আগে থেকে তিনি গরু ও মুরগি পালনের দিকেও মনোনিবেশ করেন। খামারে বর্তমানে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ছাড়াও মিশ্রজাতের মাছ রয়েছে। পুকুরের সংখ্যা ও আয়তন মিলিয়ে মাছ চাষের পরিসর চোখে পড়ার মতো। মাছের খাবার হিসেবে খৈল ও বাজারজাত প্যাকেট খাবার ব্যবহার করা হয়।
প্রাণিসম্পদ অংশে রয়েছে ২০টি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, যার মধ্যে সাতটি বাছুর। প্রতিদিন গড়ে ১০০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদের খাদ্য হিসেবে খৈল, ভুসি, খড় ও নিজ খামারে উৎপাদিত ১০ বিঘা জমির হাইব্রিড নেপিয়ার ঘাস ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি ব্রয়লার ও সোনালী জাতের মুরগিও রয়েছে খামারে। পশু ও মুরগিতে মাঝে মাঝে সাধারণ রোগ দেখা গেলেও খামার মালিক নিজেই তা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
মো. কালামের খামারে বর্তমানে ১৬ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন, যাদের প্রত্যেককে মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে মজুরি প্রদান করা হয়। খামার পরিচালনার পাশাপাশি তিনি নির্মাণ শ্রমের কাজ ও কৃষিকাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পরিবারে মোট সাতজন সদস্য রয়েছেন।
খামার পরিচালনায় তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৬ মাস মেয়াদী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খামারকে আরও বড় করতে চাই। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে একটা মডেল ফার্ম গড়ে তুলতে চাই। আমার মতো অন্যরাও যেন উদ্বুদ্ধ হয়, সেটাই এখন লক্ষ্য।”
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা থেকে ফার্মটি পরিদর্শন করা হয়। এ সময় খামার মালিককে তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে অফিস পরিচিতি এবং বিভিন্ন মুদ্রিত প্রকাশনা সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
গ্রামের সাধারণ একজন মানুষ থেকে একজন উদ্যোক্তায় পরিণত হওয়া মো. কালামের এই প্রচেষ্টা স্থানীয় যুবসমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
