গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার দুপুর ৩ টায়
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের হাজী দেলোয়ার হোসেন একজন ঠিকাদার। তবে শুধু ঠিকাদারি নয়, শখের বসে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে তিনি গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আজ তার এই শখের খামারই পরিণত হয়েছে একটি সুসংগঠিত ডেইরি ফার্মে, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি দুগ্ধ উৎপাদন ও কোরবানির পশুর যোগান দিচ্ছে।
তিনি মূলত ব্যক্তিগত আগ্রহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার খামারটি গড়ে তোলেন। প্রথমদিকে কয়েকটি গরু নিয়ে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারটি বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তার খামারে ৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন, যারা প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয় । তার এই খামার শুধুমাত্র তার নিজের আয়ের উৎসই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের একটি নির্ভরযোগ্য স্থান।
বর্তমানে হাজী দেলোয়ার হোসেনের খামারে বিভিন্ন জাতের গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান ১৫টি, গয়াল ১টি, বকনা বাছুর ১৪টি, ষাঁড় ৬টি, গাভী ১০টি, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ১০টি এবং ভেড়া ১০টি রয়েছে। তার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়।
খামারের পশুগুলোর জন্য তিনি নিজস্ব জমিতে ঘাস চাষ করে থাকেন, পাশাপাশি খৈল, ভুসি, খড় এবং সয়াবিন দিয়ে সুষম খাদ্য সরবরাহ করেন। পশুগুলোর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য তিনি নিয়মিত টিকা প্রদান করেন, যার ফলে রোগবালাই খুবই কম দেখা যায়। ফুড পয়জনিংয়ের মতো সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণের ফলে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।
এই খামার পরিচালনা করতে প্রতি মাসে ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। যদিও এটি একটি বড় বিনিয়োগ, তবে দুধ বিক্রি, কোরবানির পশু বিক্রি এবং অন্যান্য খামারজাত পণ্য থেকে ভালো পরিমাণ আয় হয়।
খামারের উন্নয়নে তিনি নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে গবাদিপশু লালন-পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে সংগ্রহ করেন। ভবিষ্যতে তিনি খামারটি আরও বড় করতে চান এবং গবাদি পশুর জন্য দুটি নতুন শেড তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তার লক্ষ্য হলো খামারের পরিধি বৃদ্ধি করে অধিক পরিমাণে দুগ্ধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা। এছাড়াও, এই খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধিত, যা তার ফার্ম পরিচালনায় অতিরিক্ত সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
শখ থেকে শুরু করা হাজী দেলোয়ার হোসেনের এই খামার এখন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক পশুপালন পদ্ধতি এবং কঠোর পরিশ্রমই তাকে একজন সফল খামারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে তার এই উদ্যোগ আরও প্রসারিত হবে এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রতিবেদনকারী:
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
