১৭/০৭/২০২৫ খ্রি.
রাজশাহী জেলার সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর খরগুনা এলাকার জহুরুল ইসলাম একজন কৃষক । কৃষি কাজের পাশাপাশি শুরু করেন মৎস্য চাষ । ৩০ শতাংশ জমি চাষ করে আর দিনমজুরের আয়ে সংসার চলত না জহরুল ইসলামের। বিপদে পড়লে অন্যের কাছে হাত বাড়াতে হতো। এমন অবস্থায় ২০২২ সালে শখের পালন করা ২ টি গরু বিক্রি করে নামেন মাছ চাষে। বর্তমানে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেন তিনি।
জ হুরুলের বাড়িতে যাওয়ার পথে গ্রামে ঢুকেই অন্যরকম দৃশ্য চোখে পড়ে। গ্রামের মাঠজুড়ে অসংখ্য পুকুর। গ্রামের নারী–পুরুষ সবাই কর্মব্যস্ত। কেউ পুকুরে মাছ ধরছেন, কেউ মাছের খাদ্য সরবরাহ করছেন। জহুরুল ইসলামের সফলতা দেখে গ্রামের অন্যরাও ঝুঁকে পড়েছেন মাছ চাষে। আর এতেই গ্রামটির চিত্র পাল্টে গেছে বলে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
জহুরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাড়ির পাশের পুকুরে জেলেদের সঙ্গে তিনি মাছ ধরায় ব্যস্ত। পরিচয় পেয়ে পুকুর থেকে উঠে এসে মাছ চাষের গল্প করেন ।
সংসারের অভাবের কথা শুনে পাশের খরগুনা গ্রামের মামুন হোসেন তাঁকে মাছ চাষের পরামর্শ দেন। ২০২২ সালে শখের পালন করা ২ টি গরু বিক্রির ১,৫০,০০০ হাজার টাকা নিয়ে মাছ চাষে নামেন তিনি। গ্রামের জাকিরুল হোসেনের ৫০ শতাংশের একটি পুকুর ২০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। পবা মৎস্য উৎপাদন খামার থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, সরপুঁটির পোনা এনে পুকুরে ছাড়েন। প্রথম বছরেই খরচ বাদে লাভ হয় ১ লাখ টাকা।
এরপর পুকুরের আয়তন বাড়িয়ে দেন জহিরুল। লিজ নেন আরও দুটি পুকুর। বর্তমানে তিন টি পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পোনা মাছ বিক্রির ব্যবসা করছেন তিনি। লাভের টাকায় জহিরুল পাকা বাড়ি করেছেন। ৭৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। সেই জমিতেও পুকুর করে করেছেন মাছের চাষ।
জহিরুলের দেখানো পথে হেঁটে এখন গ্রামের মাহাবুব হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, এখন মাসে গড়ে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন। কবির হোসেন, আবদুর রশিদ, মোস্তাক আহম্মেদসহ অনেকে এখন মাছের খামারের মালিক। পরামর্শের প্রয়োজন হলে তাঁরা জহিরুলের শরণাপন্ন হন।
