এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ২টি ছাগল পালন শুরু করেছিলেন দরিদ্র রেণু বালা। এখন তার খামারে ছাগলের সংখ্যা ৫২টি যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতি বছর এ খামার থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয় তার। ছাগল পালনে রেণু বালার এখন ভাগ্য বদল হয়েছে। তার খামারে দেশি ছাগলের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি প্রজাতির ছাগল। রেণু বালার সফলতা দেখে অনেকেই ছাগলের খামার করতে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। তিনি ছাগল পালনে সফলতা অর্জন করায় ২০১৬ সালে জাতীয় কৃষি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।
কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর পাড় ঘেষা পাঞ্জর ভাঙা গ্রামে মনোরঞ্জন অধিকারীর স্ত্রী রেণু বালার বাড়ি। তার বসত বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন ছাগলের খামার। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ছাগল পালন এখন তার পেশায় পরিনত হয়েছে। রেণু বালা বলেন, দরিদ্র সংসারে জীবিকার তাগিদে এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ২০১২ সালে ৪ হাজার টাকায় দুথটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করি। এক বছরের মধ্যে ছাগল দুথটি ৪টি বাচ্চা দেয়। ওই ছাগলগুলো বিক্রি করে তা থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেই ছাগলের খামার করার। এরপর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে যমুনা পাড়ি, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল কিনে ম্যাচিং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলি। এখন খামারে চার প্রজাতির ৫২ টি ছাগল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই ছাগলের খাওয়ানো পরিচর্যা থেকে শুরু করে ছাগলের সবকিছু দেখাশুনা করে থাকি। তবে এ কাজে আমার স্বামী ও পরিবারের লোকজনও সহযোগিতা করে। বাড়ির পাশের পতিত জায়গায় আবাদ করেছেন হাইড্রোপ্রোনিক ও নেপিয়ার ঘাস, যা ছাগলের জন্য উৎকৃষ্টমানের খাবার সেই ঘাস দিয়েই ছাগলের খাবারের বেশিরভাগ চাহিদা মেটাচ্ছেন। এছাড়া গ্রাম থেকে কাঁঠালপাতা সংগ্রহ করে খাওয়ানো হয়। তিনি আরো জানান, এ একটি মাত্র প্রাণী যার বছরে দুবার প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে।
প্রতিবার প্রজননে একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার পিপিআর, গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই আর কোনো ওষুধ লাগে না। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। যেখানে একটি বিদেশি গাভি পালন করলে প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খায়। আর সেখানে ৩০০ টাকা হলে প্রতিদিন ২০টি ছাগলকে খাওয়ানো যায়। ছাগলের খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা ও ছোলা বুটের গুঁড়া সেই সঙ্গে সয়াবিন ও খড়ের ছন। যা ছাগলের জন্য খুবই পুষ্টিকর। এছাড়া দেশের বাজারে ছাগলের বেশ চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ছাগল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব।
রেণু বালা আরো বলেন ‘আমার ছাগলের খামার দেখতে প্রতিদিন লোকজন আসছেন। তারা আমার কাছে এ সম্পর্কে ধারণা ও নানা ধরনের পরামর্শ নিচ্ছেন। তারাও ছাগলের খামার গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।থ তিনি আরো বলেন ছাগলের পাশাপাশি এবার গাভি পালনের শুরু করেছি। এখন তার খামারে ৮ টি গরু রয়েছে তার মধ্যে দুটি গাভি দুধ দেওয়া শুরু করেছে। তার ৮টি গরুর মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা হবে। খামার দেখতে আসা জসিম সরকার বলেন, ছাগলের খামার গড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার খবর শুনে রেণু বালার খামারটি দেখতে এসেছি। এছাড়া বাজারে ছাগলের চাহিদা বেশ রয়েছে ও দাম ভালো রয়েছে, তাই ছাগল পালনে ভালো লাভবান হওয়ায় তার কাছ থেকে খামারের বিভিন্ন পরামর্শ নিলাম আমিও তার মতো ছাগলের খামার গড়ে তুলব। কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এ আর এম আল মামুন বলেন, ছাগল পালন করে মোটামুটিভাবে সফল হয়েছেন রেণু বালা। আমরা নিয়মিত তার ওই ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এখন অনেকেই ছাগলের খামার গড়ে তুলতে পরামর্শের জন্য আমাদের কাছে আসছেন। তাদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ
