আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ফার্নিচার ব্যবসার পাশাপাশি গবাদিপশু পালনে এগিয়ে এসেছেন কুমিল্লার এক সফল উদ্যোক্তা। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন গরুর লালন পালন।
প্রাথমিক অবস্থায় তিনি চারটি দেশি জাতের গরু নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন। ফার্নিচার ব্যবসার পাশাপাশি অবসর সময় ও অতিরিক্ত শ্রমকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন নিয়েই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হন।
খামার শুরুর পর পরই তিনি সাময়িক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। বিগত দেড় মাস ধরে তাঁর খামারের গরুগুলো পাতলা পায়খানাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিল। তবে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পান তিনি।
ঘটনার বিবরণ জেনে প্রাণিসম্পদ দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে খামারের অসুস্থ গরুগুলোর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি খামার পরিচালনা, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সঠিক সুষম খাদ্য তৈরি এবং শীত-বর্ষায় গরুর বিশেষ যত্ন নেওয়ার বিষয়ে তাঁকে দিকনির্দেশনা ও সুপরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে গরুগুলো এখন সুস্থতার পথে।

উদ্যোক্তা মোহাম্মদ গাজী জানান, “ব্যবসার পাশাপাশি পশু পালন একটি লাভজনক পেশা। সরকারি দপ্তর থেকে চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়ায় আমার মনোবল অনেক বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয় ডেইরি খামারি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, সঠিক লালন-পালন ও সময়মতো চিকিৎসা পেলে দেশি জাতের গরু থেকেই আশানুরূপ লাভজনক ফল পাওয়া সম্ভব। কাজী মোহাম্মদের এই উদ্যোগ এলাকার অন্য উদ্যোক্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সবশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিনামূল্যে মুদ্রণ সামগ্রী দেওয়া হয়।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
