কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গেল কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালখড়পার দুর্গাপুর এলাকায়। মানিক, মজিদ ও রাহাত নামের তিন উদ্যোক্তা যৌথ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় গরুর খামার। মূল পেশা ব্যবসা হলেও বিকল্প আয়ের উৎস এবং শখ থেকে তারা এই খামারটি পরিচালনা করছেন।
খামারটিতে বর্তমানে মোট ৫৩টি দেশি জাতের গরু রয়েছে। উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ দেশি জাতের গরু লালন-পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই খামারে দুজন নিয়মিত শ্রমিক মাসিক ১৫,০০০ টাকা বেতনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন।

গরুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তারা আধুনিক ও প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করেছেন। খামারের গরুগুলোকে নিয়মিতভাবে নিজের ক্ষেতের উৎপাদিত কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়। এর পাশাপাশি খৈল, ভুসি, সোয়াবিন এবং খড় সুষম খাদ্য হিসেবে সরবরাহ করা হয়।
খামারটির ব্যবসার মডেলে রয়েছে একটি ভিন্নতা। এখানকার উদ্যোক্তারা চার মাস পরপর তাদের খামারের গরুগুলো বিক্রি করে থাকেন। এতে নিয়মিত একটি চক্রের মাধ্যমে খামারের মূলধন ও লাভ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে খামার প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সরকারি প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখান থেকে তারা বিভিন্ন সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে থাকেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে খামার প্রতিনিধি জানান, তারা এই খামারটিকে আরও বড় ও বিস্তৃত করার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগিয়ে এর পরিধি বাড়ানোর দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় যুবকদের এমন উদ্যোগ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের গবাদি পশু লালন পালন মোটাতাজাকরণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূলক প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
