দিনাজপুরের কাহারোলে দুটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারসহ অনেকে ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তরলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী (আদিবাসী পাড়া) গ্রামে বাপই বাস্কে ও দুর্গা বাস্কে এ দুই পরিবার ভেড়া পালন করে এখন সফলতা দেখছেন। বাপই বাস্কে ও দুর্গা বাস্কে দুজনই জানান, আমরা গত ২০২৩ সালের ৮ মে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দুটি করে ভেড়া ও একটি ভেড়া রাখার ঘর এবং ভেড়ার খাদ্য সরকারিভাবে পাই। এরপর ভেড়াগুলো যত্ন সহকারে লালন-পালন করছি। বর্তমানে দুটি ভেড়া থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি ভেড়া রয়েছে। আমাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগে থাকত। ভেড়া পালনের পাশাপাশি আমরা অন্যের বাড়িতে দিনমজুর হিসাবে কাজ করে শত কষ্টের মধ্য দিয়ে সংসার পরিচালনা করেছি এবং ভেড়া পেয়ে এগুলোর যত্ন নিয়ে এ পর্যন্ত ৮-৯টি ভেড়া রয়েছে আমাদের। ইতোমধ্যে দুইটি করে ভেড়া বাজারে বিক্রি করেছি। ৫ হাজার টাকা করে প্রতিটি। এসব ভেড়া বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও নিজের সংসারের ব্যয় মিটিয়েছি। আমরা পূর্বের থেকে বর্তমানে ভেড়া পালন করে ভালোভাবে সংসার পরিচালনা করছি। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা স্কুলে লেখাপড়া করছে। সেই লেখাপড়ার অর্থ ভেড়া বিক্রি করে বহন করা হয় বলে তারা উভয় পরিবারে জানায়। এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সরফরাজ হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিতরণকৃত ভেড়াগুলো সমতলভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৩৯ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। অনেকেই ভেড়া পালন করে সফল হয়েছেন। আমাদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ভেড়াগুলোর যাবতীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সহায়তা প্রতিনিয়ত প্রদান করা হয়। উপজেলায় ভেড়া পালনের ক্ষেত্রে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে অনেক হারে সফলতার মুখ দেখছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফলভোগীরা। সরকারের এরূপ মহতী উদ্যোগ আরো সম্প্রসারিত হোক বলে এই প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।