সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় খেলার মাঠের আনন্দ বাদ দিয়ে মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজিতে মুরগির খামার শুরু করেছিলেন এক রাজমিস্ত্রীর সন্তান। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরের কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতায় সেই ছোট উদ্যোগ আজ এক বিশাল বাণিজ্যিক প্রকল্পে রূপ নিয়েছে।
অভাবের দিনগুলোকে জয় করে এই তরুণ বয়স বাড়ার আগেই নিজেকে একজন সফল পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি এখন একাধিক খামার ও নিজস্ব হ্যাচারির সফল মালিক।শুরুর গল্পটা ছিল ৮শত সোনালী মুরগি নিয়ে, যেখানে মূলধনের সংকটে ডিলারদের কাছ থেকে বাকিতে বাচ্চা ও ফিড সংগ্রহ করতে হতো। প্রথমদিকে তিনশত টাকা লোকসান হলেও দমে না গিয়ে ব্যবসা ধরে রাখার অনড় মানসিকতা তাকে আজ এই অবস্থানে এনেছে। একসময় যার বাবা অন্যের অধীনে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন, আজ সেই বাবা ছেলের খামারে শ্রম দিচ্ছেন এবং তাদের অধীনে আরও বেশ কয়েকজন কর্মচারীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
খামারের কাজের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়াতে তিনি পশুপালন বিষয়ের ওপর একটি চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে এই তরুণ খামারির অধীনে তিনটি বড় সেট রয়েছে, যেখানে ২ হাজার লেয়ার, ৩ হাজার কালার বার্ড এবং ১ হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। এর পাশাপাশি ১০ হাজার ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক হ্যাচারি এবং স্থানীয় খামারিদের আপদকালীন সহায়তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখা ফিড ও ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গভীর রাতে মুরগির যেকোনো জরুরি সমস্যায় নিজে ওষুধপত্র নিয়ে খামারে ছুটে যান এই তরুণ।
পোল্ট্রি বাজারের ওঠানামার কারণে মাঝে মাঝে ব্যবসায় লাভ-লোকসান হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এলাকার মানুষ ও বড় ভাইয়েরা তার এই অল্প বয়সের অভাবনীয় সামর্থ্য ও বড় ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা দেখে তাকে বেশ ভালোবাসেন। সততার সাথে ব্যবসা প্রসারিত করে ভবিষ্যতে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান এই অদম্য তরুণ উদ্যোক্তা।
