চাকরী জীবনের পাঠ চুকিয়ে বসে না থেকে মাছ চাষে নিজের ভাগ্য বদলেছেন সাবেক সেনাসদস্য মো. মানিক মিয়া। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল এলাকায় গড়ে তুলেছেন এক সফল মৎস্য খামার। নিজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ ও বেকারদের কাছে তিনি এখন এক সফল উদ্যোক্তার অনন্য উদাহরণ।
২০২৪ সালে ইজারা (লিজ) নেওয়া ৪০ শতাংশের বেশি আয়তনের জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন মানিক মিয়া। বর্তমানে তাঁর খামারে তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, মৃগেল ও বিভিন্ন জাতের কার্প মাছের মিশ্র চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষ নিশ্চিত করতে মাছের প্রধান খাদ্য হিসেবে তিনি রেডিমেড ফিড ব্যবহার করেন।

মাছ চাষের এই যাত্রায় মানিক মিয়াকে কিছু চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হতে হয়েছে। জলাশয়ে গ্যাসের প্রাদুর্ভাব এবং শীতকালীন বিভিন্ন রোগবালাইয়ের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে তিনি নিয়মিত সচেতন থেকে পুকুরে নির্দিষ্ট মাত্রায় চুন ও লবণ প্রয়োগ করে পানি ও মাছের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
মাছ চাষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মানিক মিয়া বলেন, “সঠিক নিয়ম মেনে ও যত্ন নিয়ে মাছ চাষ করলে এতে অবশ্যই লাভবান হওয়া সম্ভব। অনেক বেকার তরুণ চাকরির পেছনে না ঘুরে বুঝে-শুনে মৎস্য খামারে এগিয়ে এলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।”
উল্লেখ্য, তাঁর এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবং মৎস্য চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য সহায়তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক মুদ্রণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদক : খালেক হাসান। কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
