তারিখ : ১১.০২.২০২৫ খ্রি.
জহির উদ্দীন আহম্মেদ, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রামনগর গ্রামের একজন প্রবাসী ছিলেন। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাটানোর পর দেশে ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের একটি বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তোলার। ২০২৪ সালে শুরু হয় তার নতুন পথচলা—একজন উদ্যোক্তা হিসেবে।
বিদেশে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব। দেশে ফিরে তিনি ভাবতে শুরু করেন কীভাবে নিজের জায়গায় কিছু করতে পারেন। পরিবারের পরামর্শে ও নিজের ইচ্ছায় তিনি কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথমে তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। গ্রামের দুটো পুকুর—একটি ৬০ শতাংশ ও আরেকটি ৮০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পুকুরগুলোতে তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে রুই মাছের মিশ্রচাষ করেন। মাছের পোনাগুলো সংগ্রহ করেছেন লাকসামের একটি বেসরকারি হ্যাচারি থেকে। মাছের খাবার ও পরিচর্যার জন্য তিনি নিজেই দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি তার খামারে আরও একজন কর্মী কাজ করেন।
শুধু মাছ চাষ নয়, জহির উদ্দীন গবাদি পশুর দিকেও নজর দিয়েছেন। বর্তমানে তার খামারে দুটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় রয়েছে। তিনি মূলত তাদের কাঁচা ঘাস খাওয়ান। এখনো পর্যন্ত কোনো রোগ দেখা দেয়নি, তবে তিনি নিয়মিত যত্ন নিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত তিনি মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। তবে ভবিষ্যতে তিনি বানিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন বাড়াতে চান এবং গবাদি পশুর জন্য একটি ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলতে চান।
জহির উদ্দীন আহম্মেদের এই যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে নিজের উদ্যোগেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। সৌদি ফেরত এই উদ্যোক্তা শুধু নিজের জন্যই নয়, বরং তার কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন পূরণ হলে তিনি আরও অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবেন।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের মোবাইল এপস সম্পর্কে অবগত করা হয় এবং মাছ ও প্রাণিসম্পদ পালনে বিভিন্ন ধরণের মুদ্রণ সামগ্রী বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
