তারিখ : ২৫.০৮.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দীন এখন এলাকায় পরিচিত সফল উদ্যোক্তা। মূলত দীর্ঘদিন ধরে নিজের ওয়ার্কশপ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তবে ২০১০ সাল থেকে তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। সেই থেকে ধীরে ধীরে তাঁর খামারটি হয়ে উঠেছে আর্থিক সাফল্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
নাসির উদ্দীনের পুকুরের আয়তন প্রায় ৩০ শতাংশ। ছোট আয়তনের হলেও তিনি পরিকল্পিত উপায়ে মাছ চাষ করেন। তাঁর পুকুরে রয়েছে দেশি ও বিদেশি প্রজাতির মিশ্র মাছ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – রুই, কাতল, কালিবাউশ, মিররকার্প, বিগহেড, সিলভার কার্পসহ অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছ। মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ভালো উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিনি বাইরে থেকে মানসম্মত ফিড ব্যবহার করেন। খামারের যাবতীয় কাজ তিনি নিজেই তত্ত্বাবধান করেন, কোনো শ্রমিক রাখেননি।
নাসির উদ্দীন জানান, মাছ চাষ শুরু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছের যোগান দেওয়া। বর্তমানে তাঁর খামারে উৎপাদিত মাছ দিয়ে শুধু পরিবারের চাহিদা পূরণ হয় না, বরং অতিরিক্ত মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তিনি ভালো আয় করছেন। এর ফলে একদিকে তাঁর পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক স্বাবলম্বিতার পথও তৈরি হয়েছে।
শুধু মাছ চাষ নয়, নাসির উদ্দীনের খামারে রয়েছে আরও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। তিনি পাঁচটি সংকর জাতের ছাগল পালন করছেন। এগুলো বিশেষ করে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রি করে তিনি বাড়তি অর্থ উপার্জন করেন। ফলে মাছ ও ছাগল পালনের সমন্বিত এই উদ্যোগ তাঁর আর্থিক সমৃদ্ধিকে আরও বেগবান করছে।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নাসির উদ্দীন বলেন, আমি শুরুতে ছোট পরিসরে মাছ চাষ শুরু করি। এখন নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। একই সঙ্গে ছাগল পালনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এলাকার অনেক যুবক তাঁর খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। বিশেষকরে বেকার যুবকদের জন্য মাছ ও ছাগল পালন হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার সহজ পথ – এমনটি তিনি মনে করেন।
এদিকে, খামার পরিদর্শনের সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা থেকে নাসির উদ্দীনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক বিভিন্ন মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এসব মুদ্রণ সামগ্রীতে আধুনিক মাছ ও পশুপালন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকায় খামারিরা সহজেই উপকৃত হতে পারেন।
নাসির উদ্দীনের মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে নিরাপদ মাছ ও মাংস উৎপাদন করে দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য ও সহযোগিতা খামারিদের আরও এগিয়ে নিতে পারলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে – এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
