একটু লাভবান হওয়ার আশায় ২০১০ সালে মাছ চাষে নেমেছিলেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিজুড়া গ্রামের শামসুল হক। তখন কে ভেবেছিল, ১৬ বছর পর আজ তিনি হয়ে উঠবেন এলাকার একজন অনুকরণীয় সফল উদ্যোক্তা।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বিজুড়া গ্রামে গেলে চোখে পড়বে এক পরিপাটি মাছের খামার। খামারের মালিক শামসুল হক পেশায় যেমন বৈচিত্র্য এনেছেন, তেমনি জীবনযুদ্ধেও দেখিয়েছেন অনন্য দৃঢ়তা। মাছ চাষের পাশাপাশি তিনি আইসক্রিম ব্যবসার সাথেও জড়িত। ব্যবসা আর মাছ চাষ দুয়ের মেলবন্ধনে বর্তমানে ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই কাটছে তাঁর দিনকাল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৬৪ শতাংশ আয়তনের বিশাল এই জলাশয়ে রুই, কাতল, মৃগেল ও গ্রাস কার্পের মতো মিশ্র কার্প জাতীয় মাছের চাষ হলেও এর পেছনে কোনো আলাদা শ্রমিক নেই!সমস্ত কাজ নিজের হাতেই দেখাশোনা করেন এই কর্মঠ মানুষটি। মাছের সুষম বৃদ্ধির জন্য তিনি নিয়মিত কমার্শিয়াল ফিড ব্যবহার করছেন।
অবশ্য যেকোনো খামারের মতো এখানেও মাঝে মাঝে সামান্য চ্যালেঞ্জ আসে। মাঝেমধ্যে দু-একটি মাছ মারা যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে তিনি ঘাবড়ে না গিয়ে নিয়মিত পুকুরে চুন ও লবণ প্রয়োগ করে এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
তবে একটু খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এত বড় খামার চালালেও এখন পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে তাঁর কোনো নিয়মিত যোগাযোগ নেই। তাই
উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাঁকে মাছ চাষ বিষয়ক কিছু বিনামূল্যে মুদ্রণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর খামার পরিচালনায় দারুণ উপকারে আসছে।
নিজের অদম্য ইচ্ছা, সততা আর পরিশ্রম দিয়ে শামসুল হক প্রমাণ করে দিয়েছেন সঠিক পরিকল্পনা থাকলে একা হাতেও সফলতার চাকা ঘুরিয়ে একটি সুখের ও স্বাবলম্বী জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
