২১.১২.২০২৫ খ্রি.
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
কুমিল্লার শ্রীমন্তপুর আহমেদ নগর এলাকায় গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে সফলতার আলো দেখছেন মো. আমজাদ হোসেন। ২০২০ সালে বিকল্প কর্মসংস্থানের তাগিদে শুরু করা এই খামারটি এখন এলাকার অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার পক্ষ থেকে এই খামারটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
খামারের বিবরণ ও ব্যবস্থাপনা:
বর্তমানে আমজাদ হোসেনের খামারে পাঁচটি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে শংকর জাত, শাহীওয়াল এবং হলেস্টিয়ান ফ্রিজিয়ান
উল্লেখযোগ্য। পেশায় কৃষক আমজাদ হোসেন তার বাসা ভাড়ার আয়ের পাশাপাশি একজন শ্রমিকের সহায়তায় এই খামারটি পরিচালনা করছেন। খামারের গরুগুলোকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খড় এবং সয়াবিন ভুসি খাওয়ানো হয়।
উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ: খামারটিতে দুগ্ধ উৎপাদন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রতিটি গাভী থেকে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১২ লিটার করে দুধ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদিত এই দুধ তিনি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি আশেপাশের বাসা-বাড়িতে বিক্রি করেন, যা তাকে অধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
খামারি জানান, এর আগে খামারে গবাদি পশুর ‘ফুড অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’ (ক্ষুরা রোগ) এবং ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ দেখা দিয়েছিল। তবে সচেতন খামারি হিসেবে আমজাদ হোসেন নিয়মিত প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং সময়মতো ঔষধ ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করেছেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি তিনি এখন তার এই খামারটিকে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমজাদ হোসেনের মতো সচেতন খামারিরা সরকারি সেবা ও পরামর্শ গ্রহণ করে গবাদি পশুর রোগবালাই সফলভাবে মোকাবিলা করছেন। বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে পশুপালন যে কতটা লাভজনক হতে পারে, আমজাদ হোসেন তার উজ্জ্বল প্রমাণ। সবশেষে মৎস্য ও প্রাণ সম্পদ তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং যেকোনো সহায়তার জন্য নিকটস্থ প্রাণী সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়।
বিকল্প কর্মসংস্থানে নতুন পথ
24
previous post
