নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
১৮.১২.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লার আহমেদ নগর এলাকায় গবাদি পশু পালনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারী উদ্যোক্তা মিনোয়ারা বেগম। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস পরিশ্রমে তিনি নিজেকে একজন সফল খামারি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক খালেক হাসান তার এই খামারটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
শুরু ও বর্তমান অবস্থা: আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা থেকেই ২০১০ সালে খামার শুরু করেন মিনোয়ারা বেগম। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি দুগ্ধবতী গাভী। তার খামারে মূলত উন্নত জাতের হলেস্ট্রিয়ান ফ্রিজিয়ান এবং দেশি জাতের গরু পালন করা হচ্ছে। স্বামীর ভাঙারি ব্যবসার পাশাপাশি মিনোয়ারা বেগম নিজে এবং একজন শ্রমিকের সহায়তায় পুরো খামারটি দেখাশোনা করেন। 
উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা:খামারটিতে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩৬ কেজি দুধ উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। গরুগুলোকে সুষম খাবার হিসেবে নিয়মিত কাঁচা ঘাস, খড় এবং ঝাউ খাওয়ানো হয়। খামারি জানান, তিনি স্থানীয় বাজার থেকে গরু ক্রয় করেন এবং পশুকে নিয়মিত ঔষধ ও ভ্যাকসিন প্রদান করেন। ইতিপূর্বে গবাদি পশুর কৃমি এবং খাবারে অনীহা জনিত কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তিনি তা সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারি পরামর্শ: খামারি মিনোয়ারা বেগমের সাথে কথা বলে এবং আধুনিক পশুপালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন করা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেননি, তাই নিকটতমা উপজেলা প্রাণ সভ্যতা অফিসে যোগাযোগ করতে পরামর্শ প্রদান করা হয়। তবে খামারের পরিধি বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন মিনোয়ারা বেগম। “মিনোয়ারা বেগমের মতো উদ্যোক্তারা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ। নিয়মিত সরকারি পরামর্শ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তারা আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে এভাবেই খামারিদের উৎসাহিত করছি।”সবশেষে তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মুদ্রণ প্রাণিসম্পদ বিষয়ক খামারীকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
নারী উদ্যোক্তা মিনোয়ারার সাফল্য
28
previous post
