কুমিল্লার বালুতুপা এলাকার পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে বর্তমানে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন উদ্যোক্তা মো. ফারাজ মিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘ফারাজ এগ্রো ফার্মস’। ২০১২ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত শখের বশে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও, আজ এক দশকের ব্যবধানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ এবং লাভজনক বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তরিত হয়েছে। খামারে এখন ৪ হাজার ব্রয়লার এবং ৫ হাজার লেয়ার জাতের মুরগি রয়েছে। বর্তমানে এখান থেকে দৈনিক গড়ে ৪,৫০০টি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে।
মো. ফারাজ মিয়া বর্তমানে পেশাগতভাবে একটি খাদ্য কোম্পানির ডিলারশিপের সাথে যুক্ত থাকলেও, খামারের প্রতি তার নিবিড় তত্ত্বাবধান ও ভালোবাসা তাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। বর্তমানে ফারাজ এগ্রো ফার্মস-এর কার্যক্রম দুটি প্রধান ইউনিটে বিভক্ত। খামারে এখন ৪ হাজার ব্রয়লার এবং ৫ হাজার লেয়ার জাতের মুরগি রয়েছে। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে মুরগিগুলোকে নিয়মিত উন্নতমানের ‘ফিড’ বা সুষম খাদ্য প্রদান করা হয়। খামারটির উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত ঈর্ষণীয়; বর্তমানে এখান থেকে দৈনিক গড়ে ৪,৫০০টি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ডিম এবং মাংসের চাহিদা মেটাতে খামারটি সরাসরি স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর করে, যা এলাকার প্রোটিন চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে।
খামারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার জন্য ২ জন দক্ষ শ্রমিক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। পোল্ট্রি খামারে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ। ফারাজ এগ্রো ফার্মস-এর ক্ষেত্রেও মুরগির ঠান্ডাজনিত কিছু সমস্যা মাঝে মাঝে দেখা দেয়। তবে এ ব্যাপারে মালিক মো. ফারাজ মিয়া অত্যন্ত সচেতন। তিনি নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে মুরগির প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও ঔষধের ডোজ সময়মতো সম্পন্ন করেন। তার এই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার কারণেই খামারটিতে বড় কোনো মড়ক বা লোকসানের ঝুঁকি অনেকাংশে কম।
পোল্ট্রি পালনের পাশাপাশি খামার প্রাঙ্গণে বর্তমানে স্বল্প পরিসরে গবাদিপশু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে ফারাজ মিয়ার স্বপ্ন আরও সুদূরপ্রসারী। তিনি কেবল পোল্ট্রি বা ডিম উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির বর্তমান সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি বড় পরিসরে একটি আধুনিক ডেইরি বা দুগ্ধ খামার গড়ে তোলা। বহুমুখী এই কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন আমিষের যোগান দিচ্ছেন, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রাখছেন।
সবশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর আঞ্চলিক অফিস কুমিল্লার পক্ষ থেকে উক্ত খামারিকে তথ্য দপ্তর কর্তৃক মুদ্রণ সামগ্রী সংশ্লিয়ে বিষয়ের বিনামূল্যে প্রদান করা হয়
