পোলট্রি শিল্পে দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে চলা এক সফল উদ্যোগের দেখা মিলল কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঠান কোট এলাকায়। ২০১৫ সাল থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে এই পেশার সাথে যুক্ত রয়েছেন খামার মালিক। তার দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ছোঁয়া রয়েছে তার প্রতিটি খামারে। সম্প্রতি পাঠান কোটের এই খামারটি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে খামার মালিক উপস্থিত না থাকলেও তার বিশ্বস্ত প্রতিনিধি আব্দুল জলিল গত সাত মাস ধরে এই খামারে দায়িত্ব পালন করছেন। আব্দুল জলিলের সাথে কথা বলে খামারের নানা অজানা তথ্য জানা যায়। খামারটিতে মোট দুটি শেড থাকলেও বর্তমানে একটি শেডেই সোনালী মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। শেডটিতে এখন ২৫ দিন বয়সের মোট ২,৫০০টি সোনালী মুরগি রয়েছে। মুরগিগুলোর বৃদ্ধিতে কোনো ঘাটতি না রেখে সম্পূর্ণ মানসম্মত বাজারজাতকৃত ‘রেডি ফিড’ বা প্রস্তুত খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। সাধারণত ৪৫ দিন বয়স হলেই একেকটি মুরগির ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয় এবং তখনই তা বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।
খামারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল জলিল জানান, নিয়মিত ও সময়মতো ভ্যাকসিন বা টিকাদান নিশ্চিত করার কারণে বড় ধরনের কোনো রোগব্যালাই বা বিপদের মুখে পড়তে হয়নি। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দিলেও অভিজ্ঞতার কারণে তা দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

খামার মালিকের ব্যবসায়িক পরিধি কেবল এই পাঠান কোটেই সীমাবদ্ধ নয়। সোনালী মুরগির পাশাপাশি তারা ‘কালার বার্ড লেয়ার’ মুরগিও পালন করে থাকেন। এছাড়া কুমিল্লা জেলার ফুলতলী এবং কমলাপুর নামক স্থানেও তাদের আরও কয়েকটি খামার রয়েছে। পোলট্রি খাতের এই সফলতাকে ধরে রেখে ভবিষ্যতে খামার ও ব্যবসার পরিধি আরও বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
পরিদর্শন শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আধুনিক পোলট্রি পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কিছু তথ্যবহুল ও দরকারি মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে খামার মালিকের বিশ্বস্ত প্রতিনিধি আব্দুল জলিলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত টিকাদান এবং অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে পাঠান কোটের এই খামারটি আজ স্থানীয় পোলট্রি খাতে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদক, খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা।
