তারিখ : ২৬ জুন ২০২৫
বর্তমান সময়ে যুব সমাজের অনেকেই যখন চাকরির পেছনে ছুটছেন, তখন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাফোড়া গ্রামের মো. শাহিন দেখিয়েছেন একটি ভিন্ন পথ—আত্মকর্মসংস্থান। ২০১৬ সালে বিদেশ থেকে ফিরে জীবনের স্থায়ীত্ব খুঁজতে তিনি হাতে নেন গবাদিপশু পালন ও খামার গড়ার উদ্যোগ। সেই পথচলার শুরুতেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘পারিবারিক খামার’ নামের একটি স্বনির্ভর ফার্ম, যা আজ এলাকায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত।
খামারি মো. শাহিন জানান, “আমি প্রথমে একটি দেশি গাভী দিয়ে শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে গাভীর সংখ্যা বাড়াতে পেরেছি। এখন তিনটি গাভী থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়, যা স্থানীয় দোকান ও বাজারে বিক্রি করি।”

বর্তমানে খামারে রয়েছে ৩টি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী, ২টি জার্সি জাতের গাভী, ২টি দেশি গরু এবং ৩টি বাছুর। পশু সংখ্যার দিক থেকে এটি হয়তো বড় পরিসরের খামার নয়, কিন্তু এর পরিচালনায় আন্তরিকতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা রয়েছে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দুজন মিলে এই খামারের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করেন তারা। খামারটিকে তিনি শুধু পেশা নয়, বরং ভালোবাসার অংশ হিসেবেই গড়ে তুলেছেন।
শুধু গরু পালনেই সীমাবদ্ধ নন শাহিন। পারিবারিক খামারে তিনি হাঁস ও মুরগিও লালন-পালন করে থাকেন, যা পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করছে।
খামারের পশুগুলোর খাদ্যের জন্য শাহিন নিজেই ১০ ঘণ্টা জমিতে হাইব্রিড জাতের কাঁচা ঘাস উৎপাদন করেন। এর মাধ্যমে তিনি খরচ কমিয়ে এনেছেন এবং পশুগুলোকে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত করেছেন। পশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সরকারি টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
খামারে মাঝে মাঝে পেট ফোলা রোগ দেখা দিলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়নি। সরকারি সেবা ব্যবস্থার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহিন বলেন, “প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও ভ্যাকসিন পেয়ে আমি অনেক উপকৃত হচ্ছি।”
চার সদস্যের এই পরিবারটি খামার থেকে অর্জিত আয়েই স্বাচ্ছন্দ্য জীবন যাপন করছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ২-৩টি গরু বিক্রি করেই বছরে আয়-ব্যয়ের সমন্বয় করেন তিনি। এতে তার খরচ উঠে আসে এবং কিছু লাভও থেকে যায়।
ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে শাহিন জানান, তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। যাতে দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ একসাথে করা সম্ভব হয়। তার লক্ষ্য শুধু নিজের আয় বাড়ানো নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে দুধের ঘাটতি পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
এই খামার শুধু একটি ফার্ম নয়-এটি একজন বিদেশফেরত যুবকের সাহস, স্বপ্ন ও পরিশ্রমের ফসল। তার এই উদ্যোগ অন্য যুবকদের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস। সরকারিভাবে এমন খামারগুলোর প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা বাড়ানো হলে দেশে আত্মকর্মসংস্থানের পথ আরও প্রসারিত হবে।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের মুদ্রণ সামগ্রী প্রদান করা হয় এসাথে তথ্য দপ্তরের বিভিন্ন কাজ ও পরিচিতি দেয়া হয়।
প্রতিবেদনকারী :
খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
