মো. মোতাহার হোসেন কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কচুয়া গ্রামের একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী উদ্যোক্তা। গ্রামবাংলার সাধারণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তিনি সবসময় নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন থেকেই তিনি ব্রয়লার মুরগি ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শুরুর দিকে মোতাহার হোসেন অল্প পরিসরে কাজ শুরু করেন। তিনি স্থানীয় খামারীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী ব্রয়লার মুরগি সংগ্রহ করে নিজের শেডে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেগুলো এক সপ্তাহ অত্যন্ত যত্নসহকারে পালন করেন। এই সময়ে মুরগির খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে মুরগিগুলো দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
মোতাহার হোসেন প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০০টি ব্রয়লার মুরগি তার শেডে এনে রাখেন। তার খামার দেখাশোনা ও পরিচর্যার জন্য তিনি দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা নিয়মিত শেড পরিষ্কার করেন, মুরগিকে সময়মতো খাবার ও পানি দেন এবং সার্বিক পরিচর্যা নিশ্চিত করেন। এর ফলে খামারের পরিবেশ থাকে স্বাস্থ্যসম্মত এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
তিনি শুধু কচুয়া বাজারেই মুরগি বিক্রি করেন না, পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বিয়ে ও অনুষ্ঠান আয়োজনকারী হোটেলেও নিয়মিত ব্রয়লার মুরগি সরবরাহ করেন। এতে তার বিক্রির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একটি নির্ভরযোগ্য ক্রেতা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। সময়মতো মানসম্মত মুরগি সরবরাহ করার কারণে তার সুনাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আজ মো. মোতাহার হোসেনের এই ব্যবসা তার পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। তিনি নিজের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার সততা, পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে গ্রাম থেকেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
মোতাহার হোসেনের এই সফলতার গল্প নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে যেকোনো ছোট উদ্যোগই একদিন বড় সাফল্যে রূপ নিতে পারে।
সবশেষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের পরিচিতি দেয়া হয় এবং তথ্য দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত প্রাণিসম্পদ বিষয়ক মুদ্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনকারী:
সুরাইয়া আক্তার, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
