কুমিল্লা ,১৮.০৯.২০২৫ খ্রি.
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কাজী পাড়ায় মশুর মুরগি খামার স্থানীয়দের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি ২০১৮ সালে তিনি খামারটি শুরু করেন। শুরুতে ছোট আকারে উদ্যোগ নিলেও পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় আজ এটি একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে খামারে প্রায় ৬,০০০ ব্রাউন কক মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। বাচ্চাগুলোর বয়স বর্তমানে ৩৮ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে। প্রতিদিন তিনি নিজেই খামারের সার্বিক তদারকি করেন। কোনো শ্রমিক ছাড়াই খামারের সকল দায়িত্ব পালন করলেও সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত যত্নের কারণে খামারটি বেশ সুসংগঠিতভাবে চলছে।
খামারের মুরগিগুলোকে তিনি নিয়মিত ফিড সরবরাহ করেন এবং প্রয়োজনীয় টিকা (ভ্যাকসিন) সঠিকভাবে প্রদান করে থাকেন। ফলে রোগ-বালাই থেকে মুরগিগুলো সুরক্ষিত থাকছে এবং খামারের উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দেওয়া পরামর্শকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও তাঁকে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খামার শুরু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাবলম্বী হওয়া। তিনি মনে করেন, “বসে না থেকে হাঁস-মুরগি পালন করলে একজন বেকার যুবকও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন।” তাঁর এই বাস্তব অভিজ্ঞতা এলাকার তরুণদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেননি, তবুও নিয়মিত ভ্যাকসিন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা খামারের সফলতায় বড় ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খামারের মুরগি বিক্রি করে প্রতি বছর তিনি ভালো পরিমাণ লাভ করে থাকেন। এই আয় তাঁর পারিবারিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন খামারি উদ্যোক্তাদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।
এছাড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর থেকে তাঁকে বিনামূল্যে মুদ্রণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে, যা খামার পরিচালনায় কাজে আসছে। তিনি মনে করেন, সরকারি সহায়তা ও নিয়মিত দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে খামারগুলো আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।
জনাব মশুর এই খামার কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন, আত্মনির্ভরতা ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।
প্রতিবেদক: খালেক হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, কুমিল্লা।
